জোকোভিচকে কাঁদিয়ে মেদভেদেভের প্রথম

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩০

স্পোর্টস ডেস্ক

সুযোগ বারবার আসে না। সেটা জানতেন নোভাক জোকভিচ। জানতেন বলেই, র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড় কথা দিয়েছিলেন ইউএস ওপেনের ফাইনালে নিংড়ে দেবেন নিজেকে। কিন্তু প্রত্যাশার চাপ তাকে এতটাই বশ করেছে যে ক্যালেন্ডার স্ল্যাম জয়ের ইতিহাস আর লেখা হয়নি। সার্বিয়ান এই টেনিস তারকাকে কাঁদিয়ে ৬-৪,৬-৪,৬-৪ গেমের সরাসরি সেটে বরং নিজের ইতিহাস লিখলেন দানিল মেদভেদে। তাতে এই বছর আর একক সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের তালিকায় রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালকে  ছাড়ানো হলো না জোকোভিচের।

ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরুতে একটু ঢিলেঢালাভাবে খেলে শেষে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন জোকোভিচ। ১৯৬৯ সালে রড লেভারের পর প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এক বছরে সব গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তির আশায় ফাইনালেও তেমনভাবেই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার পথে মেদভেদেভ এতটাই দুর্বোধ্য ছিলেন যে, জোকোভিচকে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দেননি। দেওয়ালের মতো ডিফেন্স ও বুলেট গতির সার্ভে গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন হারের প্রতিশোধ নিলেন এই রাশিয়ান তারকা।

ফিফা গেমসের ভক্ত মেদভেদেভ শিরোপা উদ্যাপনের করেন ভিন্নভাবে। মাটিতে এমনভাবে লুটিয়ে পড়ে গেছেন যে মাত্রই মারা গেলেন। ফিফা গেমসের ভাষায় ডেড ফিশ এই উদ্যাপনের পর তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি জোকোভিচ ও তার ভক্তদের প্রতি ক্ষমা চাচ্ছি। কারণ আমরা সবাই জানি, সে আজ কীসের জন্য এসেছিল। এই বছর এবং পুরো ক্যারিয়ারে আপনি যা অর্জন করেছেন, আমি কখনই কাউকে বলিনি, তবে আমার জন্য টেনিসের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়।’

তৃতীয়বারের বেলায় ফাইনালে এসে শিরোপার দেখে পেলেন মেদভেদেভ। মজার ব্যাপার হলো ফাইনালের দিনই ছিল তার তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী। খেলার ভিড়ে স্ত্রীর জন্য উপহার কেনার সময় পাচ্ছিলেন না। তাই ঠিক করেছিলেন শিরোপাই জিতেই গ্যালারিতে থাকা স্ত্রীকে খুশি করবেন ২৫ বছর বয়সি এই খেলোয়াড়। সেটা করলেনও।

 র্যাংঙ্কিয়ের দুই নম্বর বাছাই বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন, উপহার নিয়ে ভাবার সুযোগ পাইনি। যখন সেমিফাইনালে পৌঁছালাম, তখন ভাবলাম, যদি হেরে যাই তাহলে দ্রুত উপহার কিনতে হবে আমাকে। কিন্তু যখন জিতে গেছি, তখন মাথায় আসল—ফাইনালে যদি হেরে যাই তাহলে তো উপহার কেনার সুযোগ নেই। তাই ম্যাচটি আমাকে জিততেই হতো।’

এই হারের আগে চলতি বছর ২৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিলেন জোকোভিচ। পকেটে পুরেছেন তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিউ ইয়র্ক ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত জোকোভিচ নিজেকে মনে করছে সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে। যেখানে বরাবরই অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছে তাকে। একই সঙ্গে প্রশংসা করেছেন মেদভেদেভেরও।

জোকোভিচ বলেন, ‘যদিও আমি জিতিনি তবু আমি বলতে চাই, আমার হূদয় আজ আনন্দে ভরপুর এবং আমি সবচেয়ে সুখী মানুষ। কারণ, আপনারা আমাকে এই কোর্টে বিশেষ কিছু বানিয়েছেন, যা আগে কখনো মনে হয়নি। বর্তমানে যদি কেউ গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রাপ্য থাকে তাহলে সেটা মেদভেদেভ। সাবাশ। আমি নিশ্চিত আরো অনেক শিরোপা জিতবে তুমি।’

 মেদভেদেভের কীর্তি

৩             তৃতীয় রাশিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় জিতলেন মেদভেদেভ। তার আগের দুজন- ইয়েভগেনি  কাফেলনিকোভ  ও মারাত সাফিন

৫            র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর খেলোয়াড়কে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হারানো পঞ্চম খেলোয়াড় মেদভেদেভ।

১             এমা রাদুকানুর পর মেদভেদেভেরও এটি প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম। ১৯৯০ সালের পর এমন দৃশ্য প্রথম দেখল ইউএস ওপেন। টেনিসে সবশেষ এমনটা হয়েছিল ২০০৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে।

২             ইউএস ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচকে সরাসরি সেটে হারানো দ্বিতীয় খেলোয়াড় মেদভেদেভ। ১৪ বছর আগে যা করেছিলেন রজার ফেদেরার।