ভারত কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না :কাদের

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ভারত সরকার কথা দিয়েছে সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না। আশা করি, দেশটির সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের মুখোশের আড়ালে ক্ষমতার জন্য দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। যারা স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায় তারা কখনো সার্বভৌমত্বের রক্ষক হতে পারে না। বিএনপি নেতাদের সীমান্ত নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা ভুলে গেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই। তারা মুখে বিরোধিতা করে ফেনা তুললেও ভারতের সঙ্গে নতজানু অবস্থান নিয়েছিল, যা তাদের সময়ে দেশবাসী দেখেছে। শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় বহু বছরের পুরোনো ছিটমহল বিনিময় এবং সীমান্ত সমস্যা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের শাসনামলে কোনো সমস্যার সমাধান তো করতে পারেইনি; বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতার দেওয়াল তুলেছে। বর্তমান সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে অবিশ্বাসের দেওয়াল ভেঙে তৈরি করেছে সম্পর্কের  সেতুবন্ধন। তিনি বলেন, ভারতে সরকার পরিবর্তনের পর যারা (বিএনপি) দেশটির দূতাবাসের বন্ধ দরজায় ফুল আর মিষ্টি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন, তার চেয়ে নতজানু নীতি আর কি হতে পারে? আওয়ামী লীগের হাতেই এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এক কঠিন এবং সংগ্রামী জীবন-যাপন করেছেন তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ  রেহানা। এদের মধ্যে নির্মোহ ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে না এলেও বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। এসময় ওবায়দুল কাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ৬৭তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত শেখ রেহানা লন্ডনে মেট্রো ও বাসে যাতায়াত করেন। চাকরি এবং পরিশ্রম করেই সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। শেখ রেহানার সন্তানরা আজ আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার গঠন করেছেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর জীবনে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, শেখ রেহানাও বড় বোন শেখ হাসিনার জীবনে সেই ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি (শেখ রেহানা) প্রচারবিমুখ। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার হূদয় জুড়ে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য স্বপ্ন।