বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগে আদালত বর্জন করেছেন ঐ আদালতের সিনিয়র আইনজীবীরা। ‘বিচারকসুলভ আচরণ’ না করার অভিযোগ জানিয়ে গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে পুরো কার্যদিবস আদালত বর্জন করেন তারা। তবে ১১টার দিকে আদালত কক্ষে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে আইনজীবীরা বেরিয়ে গেলেও তাদের অনুপস্থিতিতেই ২০ মিনিট পর মামলাসংক্রান্ত কার্যক্রম ফের শুরু করা হয়।
সিনিয়র আইনজীবী মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘বিচারক একটি নিয়ম করেছেন আদালতের মধ্যে ছয় জনের বেশি আইনজীবী থাকতে পারবেন না। নারী কোর্টে আমার একটা নালিশি মামলা ছিল। আমি আদালত কক্ষের সামনে গিয়ে দেখাতে পাই ভিতর থেকে দরজা আটকানো। এ সময় অন্য আইনজীবীদের অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। সেখানে উপস্থিত সিনিয়র-জুনিয়র আইনজীবীরা বসার জায়গা না পেয়ে কেউ দাঁড়িয়ে কেউ বা একটি চেয়ারে দু’জন করে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আদালত কক্ষের দরজা খোলা হয়। উত্তর পাশে একটা চেয়ার খালি পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে বসি। এ সময় বিচারক আমাকে বলেন, আমি এখানে কী করছি? তখন আমি একটি নালিশি মামলার বিষয়ে এসেছি বলে অবহিত করলেও বলেন সাড়ে ১১টার পর শুরু করা হবে। তখন ১১টা ১০ মিনিট হলেও আমি আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। তখনই বিচারক হঠাত্ করে দাঁড়িয়ে খাসকামরায় চলে যান। আমি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকনসহ সবাই কোর্ট থেকে বের হয়ে যান। এরপর বিচারক তার পিয়ন দিয়ে আইনজীবী ছাড়াই মক্কেলদের ডেকে ডেকে আদালত কার্যক্রম চালিয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়েজুল হক ফয়েজ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার বেশি আইনজীবী আদালত কক্ষে ছিলেন। অতিরিক্ত আইনজীবী থাকায় বিচারক এবং আইনজীবীরা বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এটি বড় কোনো ঘটনা নয়। ২০ মিনিট পর আদালত কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন সাংবাদিকদের বলেন, সকালে আদালত চলাকালে সিনিয়র আইনজীবী দুলালের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন বিচারক। আমরা অমর্যাদা নিয়ে কোর্ট করব না। সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
