ফোনালাপ ফাঁস ও মিডিয়ায় সগৌরবে প্রচার করা ঠিক নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৫

ফোনে আড়িপাতা এবং ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, মোবাইল ফোনে কথা বলা দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষ ফোনালাপ ফাঁস করতে পারেন। তবে এখানে কোন পক্ষের কি স্বার্থ আছে তা জানি না। তবে ফোনে আড়ি পাতা ঠিক নয়। সেই আড়িপাতা সংলাপ মিডিয়ায় সগৌরবে প্রচার করাটাও উচিত নয়। ফোনে আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁস বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দায়েরকৃত রিটের শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই মন্তব্য করে।

আদালত বলে, ফোনালাপ যখন মিডিয়ায় ফাঁস করা হয় তখন ব্যক্তির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়। সামাজিকভাবে ঐ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে       আগামী রবিবার এ রিটের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট।

এদিকে রিট আবেদন দায়েরের পূর্বে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে থাকেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। নোটিশের জবাব না পেয়েই রিট মামলা করে থাকেন আইনজীবীরা। লিগ্যাল নোটিশের এই জবাব না দেওয়া প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছে, আমাদের দেশে ডিমান্ড নোটিশের জবাব দেওয়ার চর্চাটা সেভাবে গড়ে উঠেনি। হয়তো লাখে দুই-একটা নোটিশের জবাব পেয়ে থাকতে পারে কেউ কেউ।

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা তদন্ত চেয়ে গত ১০ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী। লিগ্যাল নোটিশের জবাব না পেয়েই এ রিট করা হয়। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩০(চ) ধারা অনুযায়ী টেলিযোগাযোগের একান্ততা রক্ষা নিশ্চিত করা বিটিআরসির দায়িত্ব। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমি, আপনারা বা অ্যাটর্নি জেনারেল কেউ নিরাপদ নই। এটা প্রতিরোধে বিটিআরসির কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, যারা রিট আবেদনকারী হিসাবে রয়েছেন তাদের কারোর ক্ষেত্রেই ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ফলে তারা কীভাবে সংক্ষুব্ধ হলেন? যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা চাইলে বিটিআরসিতে আবেদন করে প্রতিকার চাইতে পারেন। এছাড়া নিম্ন আদালতে দেওয়ানি মামলা করারও সুযোগ আইনে রাখা হয়েছে। অতএব এই রিট খারিজযোগ্য। তিনি বলেন, ফোনালাপ যে কেউ একজন রেকর্ড করে তা ফাঁস করতে পারে। এখানে বিটিআরসির কি করার আছে?

এ পর্যায়ে আদালত বলে, এই ফোনালাপ ফাঁস প্রতিরোধ করা সম্ভব কিনা? পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, এটা সম্ভব।