বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে উপজেলার ধল্লা খাসেরচর মাহমুদিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শামসুদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তা তিনি উপেক্ষা করে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে এ ব্যাপারে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তার বিরুদ্ধে রেজুলেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ জ ম ছাদেকুর রহমান অবসরে গেলে সহকারী অধ্যাপক মো. শামসুদ্দিনকে পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই রেজুলেশন খাতা বাসায় নিয়ে রাখা, জাতীয় দিবসগুলোতে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকা, শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে অসদাচরণ, বাজেট মিটিং না করা, মাদ্রাসার শূন্য পদে অধ্যক্ষসহ আরো চারটি সৃষ্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা, মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে অনীহা এবং এ ব্যাপারে কটূক্তি করার কারণে গত ১১ আগস্ট তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. আকরাম হোসেনকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি। অথচ মো. শামসুদ্দিন স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তরে নারাজ।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে শামসুদ্দিনকে মোতাহার আলী ইসলামীয়া মাদ্রাসা থেকে দুর্নীতির দায়ে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০১৮ সালে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার চাকরি বহাল করা হয়। এবার বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এদিকে মো. শামসুদ্দিন বিবাহ নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজিও বটে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত ফি ও ভুয়া ডিভোর্স লেটার দিয়ে সংশ্লিষ্টদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান মো. শামসুদ্দিন।
