মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
নীলক কোনও কোনও পদার্থ আপতিত আলো শোষণ করে নিয়ে অন্য বর্ণের বা অন্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিকিরণ করে। এই ঘটনাকে বলে প্রতিপ্রভা। এসব পদার্থকে প্রতিপ্রভ পদার্থ বলে। যেমন রাতের বেলা রাস্তার কোনও পিলারে গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লে ঐ পিলার থেকে একটা আলো আসছে বলে মনে হয়। এটাই প্রতিপ্রভা।
সীমা ঘাড় নাড়ল, বুঝেছে। আরও একদিন বলেছিলেন বাবা, ভুলে গেছে।
নীলকান্তবাবু বললেন, রন্টজেন একটা মোটা লাল কাগজ দিয়ে ক্ষরণ নলকে আবৃত্ত করেও প্রতিপ্রভা দেখতে পেলেন। এই ঘটনা স্যার জে জে থমসনও লক্ষ করেছিলেন, কিন্তু গুরুত্ব দেননি। নলের মধ্যে পুরু ধাতব পাত দিয়ে আড়াল করেও একই ঘটনা দেখতে পেলেন বিজ্ঞানী রন্টজেন। তিনি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, ক্যাথোড রশ্মি নয়, বরং ক্যাথোড রশ্মি ক্ষরণ নলে আঘাত করার পর এর থেকে বিশেষ এক ধরনের রশ্মি উত্পন্ন হয়ে প্রতিপ্রভা উত্পন্ন করছে। এই রশ্মি সকলের কাছে অজানা ছিল। ফলে রন্টজেন এর নাম দেন এক্স। পরবর্তীতে আবিষ্কারকের নামানুসারে এর নাম রন্টজেন্ট রশ্মি।
অণু বলল, এক্সরের কোনও পরিমাপ নেই?
আছে। আবিষ্কারকের নাম অনুসারেই এর পরিমাপ রন্টজেন। যে পরিমাণ বিকিরণ সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে প্রতি কিলোগ্রাম বাতাসে এক কুলম্ব চার্জের দশ লাখ ভাগের ২৫৮ ভাগ উত্পন্ন করতে পারে, সেই পরিমাণ এক্সরেকে এক রন্টজেন বলে।
রন্টজেন দেখলেন এই রশ্মি সাধারণ আলোকরশ্মি থেকে ভিন্ন। এর সাহায্যে তিনি নিজের হাতের ছবি তুলেন। শুধু নিজের নয় ১৮৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি এনাটমি বিশেষজ্ঞ আলবার্ট ভন কলিকারের হাতের এক্সরে ছবি তুলেন। ১৮৯৬ সালে তিনি দশ পাতার একটি বই ছাপিয়ে তাঁর আবিষ্কার ছবিসহ প্রকাশ করলেন। চিকিত্সক মহলে দারুণ হইচই পড়ে গেল। তাঁরা মনে করলেন চিকিত্সার জন্য এই কাজটি অনেক সহায়ক হবে। বিশেষ করে হাড়ের ডাক্তাররা খুশি হলেন। কারণ এর আগে কেউ হাড়ে ব্যথা পেলে কিংবা স্থানচ্যুত হলে টিপে টিপে জায়গায় নিয়ে গিয়ে জোড়া লাগানোর জন্য বেঁধে দেয়া হতো। যার ফলে যার হাড় ভাঙ্গল, তার বারোটা বেজে যেত। কিন্তু অন্যান্য অনেকেই এক্সরের বিরোধিতা করতে লাগল। একটা পত্রিকায় রন্টজেনের আবিষ্কারের সমালোচনা করে বলা হলো, এর ফলে মানুষকে তার নিজের কঙ্কাল দেখতে হলো। এই আবিষ্কার মোটেই ভালো নয়। অশুভ। মানুষের মনে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কয়েকটি পত্রিকায় এক্সরের ছবি নিয়ে নানা রকম কার্টুনও ছাপা হয়েছিল।
