ওরা বইয়ের পাগল। বই পড়ে, বই পড়ায়, বই পৌঁছে দেয় পাঠকের দোরগোড়ায়। মফস্বল শহরে বেড়ে উঠা এই তরুণ-তরুণীদের চিত্র সমবয়সী আর দু’চার জনের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। মোবাইল, ইন্টারনেট বা স্যোশাল মিডিয়ার রঙিন জগতে তাদের আগ্রহ নেই। তাদের চোখে-মুখে ভিন্ন এক নেশা। বইয়ের নেশা। এই নেশা ধরিয়েছে ‘জাগ্রত ঝিকরগাছা’ নামক বইপ্রেমীদের এক সংগঠন।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ২০১২ সালে একদল বইপ্রেমীর উদ্যোগে গড়ে উঠে জাগ্রত ঝিকরগাছা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় আরো কয়েক বছর পরে, ২০১৯ সালে। লক্ষ্য ছিল পাঠ্য বইয়ের বাইরেও জ্ঞানের বিস্তৃত একটি জগত আছে—এই ম্যাসেজটি স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া এবং বইয়ের আলোয় উদ্ভাসিত, মননশীল ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ গড়ে তোলা।
এক একুশে ফেব্রুয়ারিতে বটের ছায়ায় বইমেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে জাগ্রত ঝিকরগাছা। এরপর বাড়তে থাকে পরিসর। লক্ষ্য হয় আরো বিস্তৃত। যুক্ত হয় একটি বিচিত্র বইয়ের সংগ্রহশালা। সেখান থেকে পাঠকের বইয়ের খোরাক মেটাতে শুরু করেন তারা। পড়ার জন্য বই ফ্রি পাওয়া যায়, সংগ্রহে রাখার জন্য কিনে নেওয়ারও ব্যবস্থা আছে। আবার দুষ্প্রাপ্য বা মূল্যবান কোনো বইয়ের সন্ধান চাইলে তাও সংগ্রহ করে দেওয়া হয় কম মূল্যে। এখানেই থেমে নেই, পাঠক বই চাইলে বাড়িতে পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে দেয় এই বইপাগল তরুণেরা।
অল্পদিনের যাত্রায় জাগ্রত ঝিকরগাছা উল্লেখযোগ্য একটি পাঠক শ্রেণী তৈরি করে ফেলেছে। তারা স্বেচ্ছায় বই পড়েন। আবার অন্যদেরকেও উত্সাহিত করেন। তারা কেবল ঝিকরগাছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ফোনালাপের মাধ্যমেও বইয়ের লেনদেন করে থাকেন।
জাগ্রত ঝিকরগাছার পরিচালক মাহবুব শাহরিয়ার বলেন, ‘বই পড়ার মানসিকতা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা খুবই পড়ুয়া। তাদের সংস্পর্শে নতুন কেউ এলে তারাও সংক্রামিত হয়ে পড়ে। আমরা স্কুল-কলেজগুলোতে বইমেলা আয়োজন করি; ফলে খুব সহজেই তরুণ পাঠকদের এক বৃহত্ অংশের কাছে পৌঁছাতে পারি।’
নিত্যনতুন পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, বিতর্ক কর্মশালা, ভাষা চর্চা, বই মেলাসহ রক্তদান কর্মসূচিরও আয়োজন করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
