বিন্দুপাড়া কি বিন্দুতেই মিলিয়ে যাবে?

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৭

সারা দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। কিন্তু এখনো দেশের কিছু কিছু গ্রাম আছে, যাদের অধিবাসীদের এক কথায় ‘অভাগা’ বলা যায়। এমনই একটি গ্রাম ফরিদপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘বিন্দুপাড়া’। বিন্দুপাড়া থেকে মাত্র দশ মিনিটে রিকশায় করে শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এসপি অফিস, জিলা স্কুল কিংবা প্রধান ডাকঘরে পৌঁছে যাওয়া যায়। কিন্তু শহরের সন্নিকটে অবস্থিত শত বছরের এই গ্রামটি যেন এখনো শত বছর পেছনে পড়ে আছে!

বিন্দুপাড়ায় দেড় শ পরিবার তথা দেড় হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এখানকার কেউ এ যাবত্কাল সরকারি চাকরি পায়নি, এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদেও না। গ্রামের অভাগা মানুষদের উন্নয়নের জন্য সত্যিকারের পদক্ষেপ ক্ষমতাবানরা কেউ গ্রহণ করেননি। বরং এক জটিল ঘুর্ণিপাকে ডুবে যাচ্ছে গ্রামটি। আছেন কি কোনো কাণ্ডারি, যিনি সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে গ্রামটিকে যুক্ত করবেন? কিছু রক্তচোষা জোঁক গ্রামের মানুষদের চুষে খাচ্ছে। আছেন কি কোনো হিতাকাঙ্ক্ষী নেতা যিনি এসব জোঁকের মুখে লবণ ছিটিয়ে দেবেন? কিছু কুচক্রী গ্রামের মানুষদের ঋণের জালে আটকে ফেলছে। একটি ঋণের সুদ থেকে বাঁচতে তারা আরেকটি ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে ঋণের জালে জড়িয়ে কিছু এনজিও কর্মীর কিস্তির জ্বালায় জীবনটা যেন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। প্রান্তিক মানুষদের জন্য সরকারি বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প আছে। কিন্তু সেগুলো এই গ্রামের কেউ পায় না। গ্রামের কয়েকজন দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ গ্রামের সমস্ত মানুষের সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা—একটি বাড়ি একটি খামার, জেলে কার্ড, বয়স্কভাতা, শিশু কার্ড, বিধবাভাতাসহ অন্যান্য সবকিছুতে ভাগ বসায়। এজন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, এই গ্রামের অসহায় মানুষগুলো সরকারের বরাদ্দকৃত সাহায্য-সহযোগিতা পেল কি না—তা তদন্ত করে দেখা হোক এবং তত্সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ খেটে খাওয়া। এরা যখন বাজারে মাছ বিক্রি করে তখন তাদের চড়া খাজনা দিতে হচ্ছে। সন্ধ্যার সময় আগমন ঘটে বিভিন্ন চড়া সুদ ব্যবসায়ীর। অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের শকুন নজর পড়েছে এই গ্রামে। মাদক সরবরাহের জন্য নির্ধারিত লোক রয়েছে। কিন্তু এসব শ্রমজীবী মানুষ যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করে, তাহলে তার জীবন নরক হয়ে উঠবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এদিকে সুনজর দেওয়া প্রয়োজন।

এই গ্রামের বেশির ভাগ অধিবাসী সনাতন ধর্মের। এখানে সার্বজনীন মন্দির আছে, কিন্তু সেই মন্দিরের জমি নিয়েও কিছু দুষ্টচক্র অশুভ পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্দিরের জমির মালিককে স্থানীয় জেলা পরিষদের বিজ্ঞ চেয়ারম্যান মহোদয় আড়াই শতাংশ বাবদ ৫ লাখ টাকা দিয়ে জমিটি দেবোত্তর সম্পত্তিতে রূপান্তর করে দীর্ঘদিনের এই সমস্যাকে মিটিয়ে দিতে চাইলেও কতিপয় মতলববাজ দুষ্ট প্রকৃতির লোক মন্দিরের জমির মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুল বুঝিয়ে মন্দিরের জমির বিষয়টি অমীমাংসিত রাখছে। এই ধান্ধাবাজ অশুভ প্রকৃতির তিন-চারজন লোক চায় এই মন্দির নিয়ে গ্রামবাসীরা দুই ভাগ বিভাজিত হয়ে গোলমালে মেতে থাকুক। স্থানীয় পাতি নেতারাও এই সুযোগে দু-দলের নিকট থেকেই কিছু আয়-রোজগার করে খাচ্ছে। এইজন্য পাতি নেতারাও চায় সমস্যাটি যাতে সমাধান না হয়। সুতরাং সরকারের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, বিন্দুপাড়ার দেড় হাজার মানুষকে রক্ষা করুন। তাদের বাঁচতে দিন। তারা যেন বিন্দুতে মিলিয়ে না যায়।

সুবোধ চন্দ্র বিশ্বাস

বিন্দুপাড়া, ফরিদপুর