শ্রমিকদের উদ্বেগ কমাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেননি কারখানা মালিকরা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৯

সানেমের জরিপ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে নিরাপদ বোধ করছেন না। কারখানার মালিকরা তাদের উদ্বেগ কমাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেননি। শ্রমিকদের ভবিষ্যত্ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, শ্রমিকদের উদ্বেগ নিরসনে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, আয়, ব্যয়, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সানেম ও মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) যৌথভাবে ‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ নামে একটি জরিপ পরিচালনা করছে। জরিপের অধীনে, সানেম ও এমএফও ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশের মূল পাঁচটি শিল্প এলাকায় চট্টগ্রাম, ঢাকা শহর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং সাভারে কর্মরত পোশাক শ্রমিকদের সম্পর্কে প্রতি মাসে তথ্য সংগ্রহ করছে। গত ৬ আগস্ট ১ হাজার ২৭৮ জন শ্রমিকের ফোনে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এবারের জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত আসার পর পোশাক শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিপে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের কাছে লকডাউন চলাকালীন সময়ে কাজে ফেরার নির্দেশের ব্যাপারে তাদের মনোভাব জানতে চাওয়া হয়। ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে, তারা বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৭৭ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা কাজের সময় কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন। আগামীতে কী পরিমাণ মজুরি পাবেন বলে ধারণা করেন— জানতে চাইলে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে, তারা প্রায় একই ধরনের মজুরি পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। ১৯ শতাংশ জানান, তারা এ ব্যাপারে অনিশ্চিত। ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম মজুরি পাবেন বলে ধারণা করছেন। এই ১৬ শতাংশ উত্তরদাতার মধ্যে ৭৫ শতাংশ মনে করেন, লকডাউন সংক্রান্ত কারণে মজুরি কমবে। কম মজুরি দিয়ে কীভাবে সামলাবেন জানতে চাইলে সর্বাধিক ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানান যে, তারা খাবারের পিছনে ব্যয় কমাবেন। বাকিদের মধ্যে, ১৮ শতাংশ অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করবেন। ১৬ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় কমাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজের ঘরের বাইরের পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভর করবেন। ৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তাদের সঞ্চয় থেকে ব্যয় করবেন। জরিপের তথ্য উল্লেখ করে সানেম সুপারিশে উল্লেখ করেছে তৈরি পোশাক খাতের উত্পাদন, রপ্তানি ও সামগ্রিকভাবে পুরো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কারখানার মালিকপক্ষ, সরকার, নীতিনির্ধারক ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলোকে সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।