বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেওয়া ৫৫ জন জেলেসহ পাঁচটি ফিশিংবোট আটক করেছে বন বিভাগের স্মার্ট টিম। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরার মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে জেলেরা অভিযোগ করেছে।
শরণখোলার রায়েন্দা রাজৈর মত্স্যঘাটের মত্স্য আড়তদার কবির হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরারত তার ফিশিংবোট এফবি আল্লারদান তোফা ১২ জন জেলে নিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে রবিবার রাতে দুবলারচরের আলোরকোলে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। সোমবার বন বিভাগের স্মার্ট টিম তার ফিশিংবোট আটক করে। পরে সিওআর মামলা দিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তার বোটটিকে ছেড়ে দেয়। ঝড়ের কবলে পড়ে সুন্দরবনে আশ্রয় নিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হলে আমরা অসহায় গরিব জেলেরা যাব কোথায় প্রশ্ন রাখেন কবীর হোসেন। অপরদিকে, সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে দুবলার মেহের আলী খালে আশ্রয় নেওয়া পিরোজপুরের ইন্দুরকানী এলাকার চারটি ফিশিংবোট এফবি তাহিরা, এফবি মামা-ভাগ্নে, এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি ইউসুফকে ৪৩ জন জেলেসহ সোমবার দুপুরে স্মার্ট টিমের লিডার সিদ্দিকুর রহমান আটক করে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়িতে সোপর্দ করে। এর মধ্যে দুইটি ফিশিংবোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে রয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মেহেরআলী খালে মাছ ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় জানান।
বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন ইত্তেফাককে বলেন, পূর্ব সুন্দরবনে জেলে মত্স্যজীবীদের কাছে আতঙ্কের এক নাম স্মার্ট বাহিনী। বনরক্ষীদের নিয়ে গঠিত এ বিশেষ টিম বনরক্ষার অভিযানের নামে সাধারণ জেলেদের যেনতেন ভাবে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলেদের হয়রানি করে থাকে। এদের মধ্যে কোনো ধরনের মানবিকতা নেই।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ( ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দুবলারচরে পাঁচটি ফিশিংবোট আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
