২৭ সেপ্টেম্বরের পর খোলা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৩৭

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব শিক্ষার্থীর আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। আর যাদের এনআইডি নেই তাদের আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবলিংকে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ২৭ সেপ্টেম্বরের পর যে কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন  (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবাইকেই টিকার নিবন্ধন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর  এনআইডি আছে অথচ টিকার নিবন্ধন এখনো করেননি তারা এ সময়ের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার থেকেও টিকা নিতে পারবেন। 

আর যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই তারা জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থী হিসেবে ইউজিসির ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। আর যাদের জন্ম সনদও নেই তারা আগে জন্মসনদ করে তারপর শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে। 

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত কলেজের সব ছাত্রছাত্রীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

তথ্য অনুযায়ী, ইউজিসির ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে জন্মসনদ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। ইউজিসির এই লিংক সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও শিক্ষার্থী নিবন্ধন লিংক পাওয়া যাবে। ইউজিসি আগামী বৃহস্পতিবার এ লিংকটি প্রকাশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেওয়া সম্পন্ন করতে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পক্ষে মত দেন। তবে কত দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে বলে সভায় জানানো হয়।

শিক্ষা উপমন্ত্রী  মো. মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসির সদস্যবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের  সচিব  মো. মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।