পিরোজপুরে প্রতারণার মামলায় আটক এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাদের পিরোজপুর জেলা কারাগার থেকে সদর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে গত সোমবার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মুনিরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে পিরোজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত উক্ত চার ভাইকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সদর থানার ওসি আ জ মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ৯১ কোটি টাকার একটি মামলায় রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে সাত দিনের রিমান্ডে আনা হয়। তাদের জেলা কারাগার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুর সদর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুদবিহীন বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা দেওয়ার নামে মাওলানা রাগীব আহসান বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের এহসান গ্রুপের ফিল্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের গ্রাহক তৈরি করতেন। এছাড়া এহসান গ্রুপের নামে প্রতিষ্ঠা করা নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বাধ্য করা হতো তাদের গ্রাহক হতে। অন্যদিকে, এহসান গ্রুপে আমানত রাখার জন্য ধর্মভীরু মানুষকে প্রলুব্ধ করতে দেশ-বিদেশের আলেম উলামাদের এনে ওয়াজ মাহফিল করে এ গ্রুপের পক্ষে সাফাই করা হতো। এভাবে পিরোজপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের লক্ষাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এককালীন আমানত ও মাসিক কিস্তিতে আমানত নিয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তার সহযোগীরা।
এসব অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তোপখানা এলাকা থেকে পালিয়ে থাকা এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান এবং তার ভাই ও প্রতিষ্ঠানের সহপরিচালক আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে র্যাব।
