দ্রুত সময়ের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবিতে চলা আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন প্রবাসীরা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী এস এম মহিউদ্দিন বেলাল রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে।
জানতে চাইলে মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা তাদের সমস্যার কথা আমাদের কাছে জানিয়েছে। আমিও তাদের সমস্যাটা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু সিচুয়েশন এমন যে সমস্যা তো আমরা সৃষ্টি করিনি। এটা তৈরি হয়েছে। এখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসতে পারি সেটাই দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘গতকাল সকালে একটা বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কারিগরি কমিটি যে সুপারিশ করেছে তার বিষয়েই একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব ল্যাব সম্পূর্ণ প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আজকের মধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আজকের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রবাসীরা অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচিতে শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটিতেও র্যাপিড আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার নেই। এ কারণে ছুটিতে আসা অনেক প্রবাসীকর্মী কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। তারা বলেন, মন্ত্রিসভার নির্দেশের পর সপ্তাহ পেরোলেও বিমানবন্দরে পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ শুরু হয়নি।
এদিকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে কোন প্রতিষ্ঠান পরীক্ষাগার স্থাপন করবে, তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে, তা বাছাই করতে সময় লাগছে।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশে এখন নতুন শর্ত দেওয়া হচ্ছে যে বিমান উড্ডয়নের আগের চার থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে করোনার পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে। সে কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা শনাক্তে পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ল্যাব বসানোর কাজে কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামেন।
