সোমেশ্বরী। নদীটি তার নামের মতোই অপরূপ সুন্দর। সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশের নেত্রকোনা ও ভারতের মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১১৪ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার।
সোমেশ্বরী নদী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা বাজার হয়ে গারো পাহাড়ের বিঞ্চুরীছড়া, বাঙাছড়া প্রভৃতি ঝরনাধারা ও পশ্চিম দিক থেকে রমফা নদীর স্রোতধারা মিলে সৃষ্টি হয়েছে। এটি মূলত মেঘালয় রাজ্যের পর্বতবাহিত শীতল পানির স্রোতধারা। ভারতের মেঘালয়ে উত্পত্তি লাভ করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাঘোরা ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর নদীটি দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে এসে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিভাজিত দুটি শাখাই সোমেশ্বরী নামে পরিচিত। একটি শাখা পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে ভোগাই-কংস নদীতে পতিত হয়েছে। অপর শাখাটি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উপদাখালী নদীতে গিয়ে পড়েছে। ইতিহাস বলে, ৬৮৬ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক সিদ্ধপুরুষ অত্রাঞ্চল দখল করে নেওয়ার পর থেকে নদীটি সোমেশ্বরী নামে পরিচিতি পায়।
শরতের এ-সময়ে ঘুরে আসতে পারেন সোমেশ্বরীতে। এজন্য নেত্রকোনার বিরিশিরিতে যেতে হবে। বিরিশিরি থেকে সোমেশ্বরী নদীতে ঘুরতে ভাড়া করতে হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। বিরিশিরিতে যাওয়ার আগেই থাকার জায়গা ঠিক করে নেওয়া ভালো। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি, ওয়াইএমসিএ ও ওইডাব্লিউসি-এর গেস্টহাউস ছাড়াও একাধিক ছোটখাটো হোটেল আছে এখানে। তবে রাস্তার অবস্থা তেমন একটা ভালো না।
তেরিবাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঘুরে আসতে পারেন মেঘালয়ের পাহার ঘেরা সোমেশ্বরীতে। সর্পিলাকারের সোমেশ্বরীর হূদয়পটে যতই আপনি নিজেকে আবিষ্কার করবেন দেখবেন ওপারের মেঘে ঢাকা পাহাড়গুলো আপনাকে ইশারায় ডাকছে। শুধু বাধা হয়ে পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁটাতারের বেড়া। ছোট ছোট চরে বেড়ে ওঠা ধবধবে সাদা কাশবনগুলো সত্যিই হূদয়ে দোল খেয়ে যাবে। লাল বালিতে হেঁটে হেঁটে কাশবনের পরশ নিয়ে সূর্যাস্ত দেখার জন্য অবস্থান নিতে পারেন বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পে। মেঘ আকাশ পাহাড় আর নদীর পানির ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানোর দৃশ্য সমস্ত ক্লান্তি দূর করে শান্তির পরশ এনে দেবে।
নাজমুল করিম ফারুক
