‘২০ বছরের পথচলা আমার একার না’

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩০

অ জে য়  চৌ ধু রী

 

ছোটপর্দার জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্ত আছেন নাট্য নির্মাণে। ১৯৯৮ সাল থেকে নাট্যকার হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও পরিচালনায় আসেন ২০০১ সালে। এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক নাটক লিখেছেন। পরিচালনা করেছেন ৪১৫টি একক ও ১৬টি ধারাবাহিক নাটক। ১৯৯৮ সালে ‘বোধ’ নাটক লেখার মাধ্যমে নাট্যকার হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০০১ সালে নিজের লেখা ‘শেষবেলায়’ ছিল তার পরিচালিত প্রথম নাটক। দুই দশকের নির্মাণ জীবনে তিনি পেয়েছেন চারবার সিজেএফবি পুরস্কারসহ বাংলাদেশ রিপোর্টাস এসোসিয়েশন, ট্রাব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, চারুনীড়ম, বাবিবাস, ফ্রেন্ডস ভিউ অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার। টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ’র সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। টেলিভিশন নাট্যপরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টর্স গিল্ডে ২০১০-১১ বছরে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ২০১২-১৩ বছরে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে অমর একুশে বই মেলায় তার লেখা বই ‘মায়াঘর’ প্রকাশিত হয়। ব্যক্তি জীবনে গুণী নাট্যকার-পরিচালক অরুণ চৌধুরীর স্ত্রী এবং দুই সন্তান অনন্য প্রতীক চৌধুরী ও অনুলেখা চৌধুরীর মা তিনি। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক হয় বড় পর্দায়। ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রটি শুধু মানবপ্রেমের কথা বলেনি, বলেছে দেশপ্রেমের কথাও। চয়নিকা চৌধুরীর নাটকে যেমন গল্প, দৃষ্টিনন্দন শিল্প নির্দেশনা, চোখ জুড়ানো মনোরম লোকেশনের উপস্থিতি থাকে, চলচ্চিত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী নিজেই এ ছবির শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। এখনকার সময় কাটছে কেমন? উত্তরে মৃদু হেসে চয়নিকা চৌধুরী বললেন, ‘সত্য-মিথ্যার এই শহরের চেনা মানুষগুলোকে নতুন করে চিনলাম। প্রতিটা অভিজ্ঞতাই জীবনে যুক্ত করতে পারে নতুন সম্ভাবনার পালক। রবীন্দ্রনাথের মতো বলতে চাই—যে আমারে দেখিবারে পায়/ অসীম ক্ষমায়/ ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি/ এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।’ নিজের ২০ বছরের কর্মজীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম নির্মাণ নিজের লেখা ‘শেষবেলায়’। আর প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন লাইট অ্যান্ড শ্যাডোর মুজিবুর রহমান। তবে প্রথম প্রচারিত নাটক নিজের লেখা ‘এক জীবনে’। যার জন্যে কৃতজ্ঞ আমার বোন তমালিকা ও রাব্বি ভাইয়ের কাছে। নাট্যকার হিসাবে প্রথম প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন মাহফুজ আহমেদ তার বাণীচিত্র থেকে প্রচারিত নাটক ‘বোধ’ দিয়ে পথচলা শুরু। এছাড়া এই ২০ বছর কখনই আমার একার না।’ তিনি আরও বলেন, ‘অগনিত দর্শকের ভালোবাসা, আমার সকল নাটক/টেলিফিল্ম সংশ্লিষ্ট শিল্পী কলাকুশলী, সকল প্রডিউসার, লেখক, সকল চ্যানেলের প্রোগ্রাম হেড, বিপনন বিভাগ, সকল সাংবাদিক ভাই-বোনের কাছে ঋণী। এছাড়া চলার পথে প্রথম থেকে এই অবধি ইমদাদুল হক মিলন, মোস্তফা কামাল সৈয়দ, মাহফুজ আহমেদ, অরুণ চৌধুরী, তুহিন বড়ুয়া, কাজী রিটন, ফারিয়া হোসেন, লিংকন ভাই তাদের সহযোগিতা পেয়ে এসেছি। আমার প্রথম সিনেমা বিশ্বসুন্দরীর প্রথম প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন, অজয় কুমার কুন্ডু। আমি কৃতজ্ঞ আমার প্রডিউসার অঞ্জন চৌধুরী এবং অজয় কুমার কুন্ডুর প্রতি। আমার সর্বোচ্চ সংখ্যক কাজের অভিনয়শিল্পী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব।’ বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়েবফিল্ম ‘অন্তরালে’র  স্ক্রিপ্ট পান্থ শাহরিয়ার মাত্র দিলেন। এখনো পড়া হয়নি। তারিক আনাম খান ও পরীমনিকে নিয়েই কাজটা করব। আরেকটি প্রধান চরিত্র খুব তাড়াতাড়ি ডিক্লারেশন করব। এই ওয়েবফিল্মের জন্য গান লিখেছেন কবির বকুল এবং জামাল হোসেন; গাইবেন কোনাল, গোলাম সোহরাব দোদুল, সুকন্যা ও আকাশ।