পদের সঙ্গে ব্যক্তিরও স্পিরিট থাকিতে হয়

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫৩

যুক্তরাষ্ট্রে আলোড়ন পড়িয়াছে একটি নূতন গ্রন্থ লইয়া। উহা হইতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ চিত্রও খানিকটা ফুটিয়া উঠিয়াছে। ‘পেরিল’ নামের গ্রন্থটি লিখিয়াছেন দুই জন প্রথিতযশা সাংবাদিক। প্রকাশিত সেই গ্রন্থের খানিকটা প্রকাশ এবং গ্রন্থে কী আছে তাহা লইয়া বিস্তারিত আলোচনা চলিতেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারমাধ্যমে। সেই গ্রন্থে লেখা হইয়াছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তাহাকে বিপজ্জনক মনে করিয়াছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর চিফ অব জয়েন্ট স্টাফ জেনারেল মার্ক মিলে। তিনি এককভাবে গোপনীয়তার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন, যাহা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। আর তাহা হইল, কোনো ভয়ানক আক্রমণ করিবার ক্ষেত্রে অথবা পরমাণু আক্রমণের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো আদেশ যাহাতে প্রতিফলিত না হয়। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই হইলেন সাংবিধানিকভাবে এই আদেশ প্রদানের অধিকারী। কিন্তু মার্ক মিলে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং ডাকিয়া বলিয়াছিলেন, ‘আমাদের পেশাগত দায়িত্বে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রহিয়াছে। যেই হউক না কেন, কোনো আদেশ দিলে তাহা না মানিয়া প্রসিডিউর অনুসরণ করিতে হইবে এবং আমি নিজে সেই প্রসিডিউরের একটি অংশ। আপনারা কি আমার সঙ্গে একমত রহিয়াছেন?’ তিনি ইহার পর উপস্থিত সকল কর্মকর্তার সম্মুখে গিয়া দাঁড়ান এবং চোখের দিকে তাকাইয়া থাকেন। এবং প্রত্যেক কর্মকর্তা তাহাকে সায় দেন। জেনারেল মিলে ইহাকে সকলের শপথ বলিয়া ধরিয়া লন।

এই গ্রন্থে আরো উল্লেখ রহিয়াছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জিনা হাসপের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলা সম্পর্কে বলিতে গিয়া জেনারেল মিলেকে টেলিফোন করিয়া জানাইয়াছিলেন, আমরা একটি অভ্যুত্থানের মুখে রহিয়াছি।  অবশ্য মিলের এই ব্যতিক্রম সিদ্ধান্তের কারণ খুব স্পষ্ট নহে। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু ক্ষেত্রেই কোনো নিয়মকানুন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মানিতেন না। কিছুদিন পূর্বে ইহা লইয়াই আরো একটি গ্রন্থ প্রকাশ হইয়াছিল যাহার নাম ‘আই ক্যান ফিক্স ইট অ্যালোন’। আরো জানা গিয়াছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাহার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে তাহার নির্দেশনা মানিয়া লইবার জন্য চাপ দিয়া বলিয়াছিলেন, তুমি যদি আমার কথামতো না কাজ করো তাহা হইলে আর আমার বন্ধু থাকিবে না। উল্লেখ্য, পেন্স তাহার কথামতো কাজ করেন নাই। আরো কয়েকটি সাড়া জাগানো গ্রন্থ প্রকাশ হইয়াছে ট্রাম্প ক্ষমতাসীন থাকিতে এবং নির্বাচনে পরাজয়ের পর। তাহার মধ্যে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ ‘টু মাচ অ্যান্ড নেভার এনাফ :হাউ মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ড্যানজারাস ম্যান’।

ইহা উল্লেখ করিবার প্রধান কারণ, পশ্চিমা দুনিয়ায় যেই ধরনের গভীর বিশ্লেষণের এবং গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ পায় তাহা সাধারণত উন্নয়নশীল বিশ্বে পরিলক্ষিত হয় না। ইতিহাস লইয়া, রাজনৈতিক গভীর ঘটনাবলি লইয়া অতটা ঘাঁটাঘাঁটি দেখিতে পাওয়া যায় না। ইহাও সত্য যে, সুযোগও কম থাকে। সেই সঙ্গে উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে দায়িত্বশীল প্রত্যেকে সচেতন থাকেন। জেনারেল মার্ক মিলে যাহা করিয়াছেন তাহা ছিল তাহার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।  কারণ,  প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্প  জানিতে  পারিলে, অথবা পুনর্বার  নির্বাচিত হইলে জয়েন্ট  চিফ অব স্টাফকে তাহার খেসারত দিতে হইত। কিন্তু উহা বিবেচনায় না রাখিয়া তিনি যাহা  করিয়াছেন তাহা  আমেরিকার জাতির বৃহত্  স্বার্থেই করিয়াছেন। এই স্পিরিট একটি ভিন্ন স্পিরিট  বলিয়া বিবেচনা করা  যাইতে পারে। প্রতিটি জাতির দায়িত্বশীলদের মধ্যে এই স্পিরিট থাকিতে হয়।