একই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১২

বিবিসি ও রয়টার্স

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল বুধবার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রথমে উত্তর কোরিয়া এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করে। বিবদমান দুটি দেশের একই দিনে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

দিনের প্রথম ভাগে পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এ কথা নিশ্চিত করে। ছয় মাসের মধ্যে এটিই উত্তর কোরিয়ার প্রথম ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালিয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা শুরু করানোর চেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বৈঠক চলার মাঝেই বুধবার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হলো।

একই দিনে কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়াও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় সাবমেরিন থেকে। দক্ষিণ কোরিয়া এ ধরনের প্রযুক্তির অধিকারী বিশ্বের ১৭তম দেশ।  দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ঐ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষা পূর্বপরিকল্পিত এবং এটা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়া নয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুই দিন আগেই উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। পরপর এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থেকে এই ইঙ্গিতই মিলছে যে, উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও অস্ত্র উন্নয়ন করে যাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) বলেছেন, বুধবারের পরীক্ষায় স্বল্পপাল্লার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ থেকে ছোড়া হয় এবং তা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পূর্বদিকে জাপান সাগরে উড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কী ধরনের তা বিশ্লেষণ করে দেখছে বলে জানিয়েছে (জেসিএস)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া প্রযুক্তি উন্নয়নে এমন পরীক্ষা চালায় এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সুবিধা লাভের চেষ্টা করে।