কেরু চিনিকলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩২

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

দীর্ঘদিন ধরে দর্শনা কেরু চিনিকলে চুক্তিভিত্তিক  শ্রমিক কর্মচারীরা চাকরি নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। মাড়াই স্থগিত ও বন্ধ মিল থেকে স্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী কেরু মিলে যোগদান করায় চুক্তিভিত্তিকদের চাকরি হারাতে হতে পারে। যে কোনো সময় মিল এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে অত্র অঞ্চলের আখচাষি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।  জানা যায়, ১৯৩৮ সালে দর্শনায় নির্মিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনিকলে ২০০০ সালের পর অজ্ঞাত কারণেই শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এরপর যারা অবসরে যান তাদের পদে আর নিয়োগ হয়নি। মিলের কাজ চালিয়ে নিতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২৩২ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজনের মাধ্যমে শূন্য পদের স্থানে লোকবল নিয়োজন করা হয়। যে কোনো সময় স্থায়ী নিয়োগ হবে এমন আসায় বুক বেঁধে ২০-২১ বছর ধরে অল্প টাকায় চুক্তিভিত্তিক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন তারা। সম্প্রতি দেশের যেসব চিনিকলে মাড়াই বন্ধ বা স্থগিত করা হয়েছে সেই সব শ্রমিক ও কর্মচারীরা কেরু চিনিকলে এসে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারীর স্থলে যোগদান করছেন। এতে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে। কেরুর সংস্থাপন অফিস জানায়, কেরু চিনিকলে প্রায় ২০০-২৫০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী যোগদান করার কথা, গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১০২ জন যোগদান করেছেন।

এ বিষয়ে কেরু চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান, সহসভাপতি ওমর আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী জানান, ২০-২২ বছর ধরে এ মিলে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারী কাজে বহাল রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে অন্য মিলের লোকজন নেওয়া হলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। চিনিকলের কেন্দ্রীয় শ্রমিক ও কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন শ্রমিক-কর্মচারীদের সমস্যা না হয়। মিলের জিএম (প্রশাসন) শেখ সাহাব উদ্দিন জানান বন্ধ চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে বুধবার কেরুতে ১০২ জন যোগদান করেছেন বাকি যোগদান প্রক্রিয়াধীন। কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো আবু সাইদ জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কাজ করা হচ্ছে।