লাউ চাষ করে মো. মজনু মিয়া অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন। ঘিওর উপজেলার ভুবনেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা মজনু পেশায়ে শৌখিন চানাচুর বিক্রেতা। বাহারি উপকরণে তৈরি তার ঝাল চানাচুরের কদর উপজেলা জুড়ে। এবার তার হাতের আরেক জাদুতে লাভের মুখ দেখে আনন্দিত গোটা পরিবার। বাড়ির আঙিনার পাশে পতিত জমিতে লাউ চাষ করে পেয়েছেন অভাবনীয় সফলতা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় লাউ চাষ করে এমন সাফল্য পেয়েছেন মজনু। তার এ সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন লাউ চাষে। তার কাছ থেকে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
গতকাল সকালে সরজমিনে দেখা যায়, নিজ বাড়ির পতিত এক বিঘা জমিতে লাউয়ের চাষ করেছেন। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে উন্নত প্রজাতির লাউয়ের বীজ বপন করেন। বাঁশের খুঁটিতে নাইলন সুতা আর জিআই তার দিয়ে উঁচু করে তৈরি করেছেন মাচা। বীজ বপনের দুই মাসের মধ্যে লাউয়ে মাচা ভরে ওঠে। চারা রোপণ, পরিচর্যা, জৈবসার, মাচা তৈরি—সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকার মতো। ইতিমধ্যে তিনি ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আরো ৩০ হাজার টাকার লাউ তিনি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কুদ্দুছ মিয়া বলেন, বাড়ির উঠানে বা পতিত জমিতে লাউ চাষ করে বাড়তি উপার্জন সম্ভব, মজনু মিয়া তা করে দেখালেন। তার সফলতা দেখে এলাকার আরো অনেকেই এ কাজে আগ্রহী হয়ে উঠছে। মজনু মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, বেশির ভাগই এলাকার ক্রেতারা বাড়িতে এসে লাউ কিনে নিয়ে যান। আর বাকিগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। তাদের লাউ চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ জৈবসার আর যত্নে আবাদ করেছেন লাউ।
লাউচাষি মজনু মিয়া বলেন, বাড়ির উঠানের পাশের পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষ করেছি। গত বছর লাউয়ের চাষ করে তেমন লাভবান হতে পারিনি। এবার আরো বেশি লাউয়ের চাষ করি। অর্ধলাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। আরো মাসখানেক সময় তিনি লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। আবহাওয়া ও পরিবেশ ভালো হওয়ায় ফলনও হয়েছে আশাতীত। লাউয়ের আকৃতিও বেশ আকর্ষণীয়। গড়ে প্রতিটি লাউ তিনি ৫০ থেকে ৭০ টাকা করে বিক্রি করছেন। সার ও বিষমুক্ত তার উত্পাদিত লাউয়ের চাহিদাও বেশি। ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, ‘এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করে থাকেন কৃষক। লাউ চাষ করে মজনু মিয়া সফল হওয়ায় আমরা বেশ আনন্দিত। এ বছর উপজেলার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ করেছেন চাষিরা। আবহাওয়া ভালো থাকায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন। সবজি চাষে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
