চাকরিতে যোগদানের মাত্র ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) এক জন সহকারী পরিচালক প্রায় ১৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে ১৩ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সহকারী পরিচালক মো. ফারহানুল ইসলাম এবং তার ভাই রায়হানুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
গতকাল বুধবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ দুদকের উপ-পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মো. ফারহানুল ইসলাম নিজের, তার ভাই মো. রায়হানুল ইসলাম ও তার মা গৃহিণী লুত্ফুন নাহারের নামে মোট চারটি ব্যাংক হিসাব এবং দুটি ক্রেডিট কার্ডের হিসাব খুলে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত মোট ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর/হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অপরাধ করেন।
দুদক সূত্র জানায়, মো. ফারহানুল ইসলাম ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং আইডিএলসিতে সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব ও ক্রেডিট কার্ড হিসাবসহ মোট ১০টি হিসাব তার মা ও ভাইয়ের নামে নিজে পরিচালনা করেন। ইউসিবিএল এবং সোনালী ব্যাংক ব্যতীত বাকি আটটি হিসাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে অর্জিত ১২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন করেন। যার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখার সঞ্চয়ী হিসাবেই জমা করেন ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। একই শাখার চলতি হিসাব ১৪ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ভিসা ক্রেডিট কার্ডের হিসাবে ১৮ লাখ টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাস্টার ক্রেডিট কার্ড হিসাবে ২৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
এছাড়া ফারহানুল ইসলাম তার ভাই রায়হানুল ইসলামের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বসুন্ধরা শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ১১ লাখ টাকা লেনদেন করেন।
একইভাবে অভিযুক্ত ফারহানুল ইসলাম তার মা লুত্ফুন নাহারের নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের মিরপুর-১০ সার্কেল শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের গৃহঋণ হিসাবে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা লেনদেন করেন।
