ইসলামি চিন্তাবিদ ও চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইত্তেফাক :মুহতারাম, আসসালামু আলাইকুম। বিশ্বমহামারি করোনার মধ্যে কেমন আছেন?
ড. মো. আবদুল কাদির :আলহামদুলিল্লাহ। আমিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। এখন আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানিতে সুস্থ আছি।
ইত্তেফাক :করোনা মহামারি সম্পর্কে আপনার অভিব্যক্তি কী? এটা আল্লাহর আজাব, না পরীক্ষা?
ড. মো. আবদুল কাদির :করোনা মহামারি আল্লাহর তায়ালার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। যেমনটি মুসলিম শরিফের ৫৯০৭ নম্বর হাদিসে এসেছে :রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—মহামারি হচ্ছে আজাবের নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে তার বান্দাদের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কাজেই তোমরা যদি কোথাও মহামারির সংবাদ শোনো, তাহলে কখনোই সেখানে যাবে না। আর যদি তোমাদের বসবাসের নগরীতে মহামারি দেখা দেয়, তাহলে সেখান থেকে পালাবে না। তাছাড়া এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিও বটে। যেমনটি হাদিসে এসেছে। হজরত আয়েশা (রা) বলেন, একদা আমি নবিজিকে মহামারি সম্পর্কে জিগ্যেস করলাম। তিনি আমাকে বললেন, নিশ্চয়ই এটি একটি আজাব। এটা আল্লাহ তায়ালা যার ওপর ইচ্ছা প্রেরণ করেন। তবে এটি জগদ্বাসীর জন্য রহমতও বটে। সুতরাং কেউ যদি মহামারিতে আক্রান্ত হয় এবং সে যদি ধৈর্য সহকারে সওয়াবের আশায় এই ভেবে ঘরে অবস্থান করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত হুকুম ছাড়া মহামারি তাকে আক্রান্ত করতে পারবে না। সে শহিদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
ইত্তেফাক :এখন ইসলামের খেদমতে কী ভাবছেন? কী করছেন? কোন বইটি পড়ছেন?
ড. মো. আবদুল কাদির :এখন বড় ভাবনা এটাই যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি যে পরিমাণ রাগ করেছেন তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? আমার মনে হয়, এ মহামারি থেকে মুক্তির জন্য আমাদের পরিশুদ্ধ জীবন যাপন করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার পাশাপাশি দিনের খেদমতে বিভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করে যাচ্ছি। যেমন বিভিন্ন মিডিয়ায় ইসলামিক প্রোগ্রাম করছি। নিয়মিত সাপ্তাহিক জুমার খুতবায় অংশগ্রহণ করছি। বাংলাদেশ বেতারের প্রোগ্রামগুলোও করে যাচ্ছি। অল্পস্বল্প কিছু লেখালেখি ও গবেষণার কাজ চলছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘সাহাবা বিশ্বকোষে’ হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি লেখা শেষ করেছি। ‘আওলিয়া বিশ্বকোষের’ জন্য ইমাম তাহাভীর জীবনকর্মের ওপর লেখাটিও শেষের পথে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ওপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত একটি স্পেশাল জার্নাল ও একটি গবেষণা পুস্তকের সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা, আর বই পড়া তো আছেই।
ইত্তেফাক :সমাজের কোন অসংগতিটি আপনাকে পীড়িত করছে?
ড. মো. আবদুল কাদির :সমাজের মানুষগুলো কোভিড-১৯-এর মতো এত বড় মহামারি থেকেও শিক্ষা নিতে পারল না। ব্যক্তি জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে পারল না। আল্লাহর অসীম ক্ষমতা অনুধাবন করতে সক্ষম হলো না। একটি ক্ষুদ্র জীবাণু কেমন করে গোটা বিশ্বকে থামিয়ে দিল, তা খতিয়ে দেখল না!
ইত্তেফাক :এই সময়ে আমরা কোন আমলটি বেশি বেশি করব?
ড. মো. আবদুল কাদির :আমাদের বেশি বেশি তওবা করা উচিত। কারণ, আমাদের পাপের ফল এ মহামারি। আমরা যদি তওবা করে ক্ষমা চাই, তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের শাস্তি দেবেন কেন? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—তারা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ কেন তাদের শাস্তি দেবেন। অতএব আসুন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইত্তেফাক :আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মো. আবদুল কাদির :ধন্যবাদ ইত্তেফাক পরিবারকেও।
সাক্ষাত্কার গ্রহণ :ফাইজুল ইসলাম
