বাংলাদেশের জলবায়ু

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৪

আপনি কি মনে করেন যে, বাংলাদেশের

জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে? এ বিষয়ে

টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের

মতামত আজ প্রকাশিত হলো

ষড়ঋতুর বাংলাদেশের প্রকৃতিতে এখন তিন বা চার ঋতুর বেশি দেখা পাওয়া ভার। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নির্বিচারে গাছপালা ও বনাঞ্চল ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, নদনদীর অস্তিত্ব ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণকারী যানবাহনের আধিক্যে জলবায়ু তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলছে। অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, খরা, তীব্র দাবদাহ এবং শীতের মাত্রাতিরিক্ত প্রকোপ—এসবই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। সর্বোপরি, বহুল আলোচিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশের জলবায়ুর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বনায়নের পরিধি বাড়ানো, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের বিকল্প নেই।

আবু ফারুক, বনরুপা পাড়া, বান্দরবান।

মানবসৃষ্ট ও বিবিধ কারণে দিনদিন বাংলাদেশের জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হচ্ছে। যার চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ওপর। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বরফ গলে যাওয়ায় ভুক্তভোগী হতে হবে বাংলাদেশকে। একদিকে জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে অন্যদিকে কমছে গাছপালার পরিমাণ। ফলে পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডসহ বিষাক্ত সব উপাদান বৃদ্ধি পেয়ে জলবায়ুর স্থিতি ধ্বংস করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ এবং ব্যক্তি সচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং অবাধে গাছপালা কাটার ফলে বাংলাদেশের জলবায়ু জনজীবনের জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অধিক হারে বৃক্ষ রোপণ করা এবং তা সংরক্ষণে সচেতন না হলে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনের গতিরোধ করা সম্ভব নয়।

এ এফ এম সালাহউদ্দিন

বান্দরবান সদর, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সারা পৃথিবীতে বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় এসেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় ৪ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বজলুল করিম

ধানমন্ডি, ঢাকা

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের ঘটনায় জলবায়ুর উপর বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে। অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, অতিমাত্রায় বন্যা, শীতকালে প্রচণ্ড শীত, গরমের সময় প্রচণ্ড গরম। বায়ুমণ্ডলে থাকছে না বিশুদ্ধ বাতাস। প্রকৃতিও হারাচ্ছি আমরা। দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানবকুল। জলবায়ুর পরিবর্তনের শিকার—এমন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে হবে; যাতে করে তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব মোড়লদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

বিশ্বব্যাপী দুর্ভোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি আঘাত হানে এ দেশে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে হলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অতি জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে ভবিষ্যতের জন্য আরো সময়োপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও কালের পরিক্রমায় এখন আর ছয় ঋতুর দেখা মেলে না। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দুই ঋতুই এখন পরিলক্ষিত হয়—গ্রীষ্ম ও বর্ষা। জলবায়ুর পরিবর্তন যতটা না প্রাকৃতিকভাবে তার চেয়ে বেশি মানবসৃষ্ট কারণে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট মহলকে ।

উবাইদুল্লাহ তারানগরী

ধোবাউড়া ময়মনসিংহ।

বাংলাদেশের আবহাওয়ার ইতিহাসে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয় ২৫ এপ্রিল এবং এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানী ঢাকায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আইইএর সাম্প্রতিক এক বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়, চলতি বছর বিশ্ব জুড়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। অর্থাত্ ২০২১ সালে মোটের ওপর ৩ হাজার ৩০০ কোটি টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ হতে পারে। অথচ গত বছর করোনা মহামারির কারণে দেশে দেশে লকডাউন ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ কমে গিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির ২০১৪ সালের মূল্যায়নে এই বিষয়গুলো উঠে আসে। ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশে দাবদাহ ক্রমাগত বাড়ছে। একইভাবে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে এবং কিছু দিন পরপরই বিশ্বের নানা জায়গায় একই উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদীবিধৌত বদ্বীপ বাংলাদেশ আরো প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগের ঝুঁকি আরো বাড়ার শঙ্কা আছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততাকে প্রধান প্রাকৃতিক বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্বের ১৮৯টি দেশের সমর্থনে করা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা দেওয়া। ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বা সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখতে বিশ্বের দেশগুলো একমত হয় এবং সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

বাংলাদেশে জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে যা আমাদের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের উচিত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বেশি বেশি গাছ লাগানো, অপচনশীল ময়লা ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেওয়া, শহর থেকে শুরু করে আরবান পর্যন্ত পানি প্রবাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, কালো ধোঁয়া দূষণমুক্ত করা, যত্রতত্র ময়লা না ফেলে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, সেকশন-৬, ঢাকা।

আমাদের দেশের জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের দেশে এখন আর ছয় ঋতু নেই, সঠিক সময় সঠিক আবহাওয়া দেখা যায় না, খরা, অতি বৃষ্টি, নদীভাঙন লেগেই আছে, পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।

মো. মিনহাজ শেখ

কাউনিয়া, রংপুর।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশে ঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হয় না। শীতকালে শীত অনুভূত হয় না। সর্বোপরি বিরূপ সমস্যার সম্মুখীন দেশ ও দেশের মানুষ।

সালেহা আফরীন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট।

কোভিডের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের আলোচনা যেন অনেকটাই চাপা পড়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশেও জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে! তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার প্রয়াসে ২০২১ সাল আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচানোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে হাতে আর খুব বেশি সময় নেই আমাদের। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্রুত হারে সাগর-পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে। সেই সঙ্গে, জীবজন্তুর বিভিন্ন প্রজাতি তাদের আবাসস্থল বদলাচ্ছে। বরফের আচ্ছাদন বিলীন হওয়ার কারণে কার্বন নিঃসারণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে পরিস্থিতি দিনকে দিন বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে। ২০১৯ সালে পৃথিবীর ভবিষ্যত্ নিয়ে জাতিসংঘ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। জলবায়ু পরিবরর্তন মোকাবিলায় তাদেরকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার দিকটি আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে ।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

আমাদের দেশে দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে—এ কথাটি এখন সত্য। জলবায়ুর পরিবতনের কারণে বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা ও তীব্রতা। দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চলে পর্যন্ত অনেক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আগাম শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের ফলে বাঁধের অবস্থাও খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আল মায়ামী

ফুলবাড়ীয়া, সাভার।

বৈশ্বিক উষ্ণতায়নের কারণে ক্রমেই গলছে মেরু অঞ্চলের বরফ। বাড়ছে সমুদ্রের উষ্ণতা। ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চাল ডুবে যাচ্ছে। এক তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশের মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বসবাস করছে। কাজেই তাদের জীবন বাঁচাতে এবং জলবায়ু বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সব ধরনের কর্মসূচি পালনসহ যথাযথভাবে কাজ করতে হবে।

জাহাঙ্গীর হোসাইন

আমুয়া, বরিশাল।

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বন্যা এখন প্রতি বছরের নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু বন্যা নয়, সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে। দুর্যোগের সংখ্যা যেমন দিন দিন বাড়তে থাকবে তেমনি তীব্রতাও বাড়বে। কাজেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা একান্ত জরুরি।

রাসেল আহমেদ

মুগদা ঢাকা

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই ঘটছে। আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অনেক সমস্যায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জলবায়ুর জন্য যে বাজেট বরাদ্দ করা হয় তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা