আমদানি করা চাল-ভুট্টা খালাসের জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দরে অপেক্ষা করছে ভারত থেকে আসা শতাধিক ট্রাক। কাস্টমস গুদামে জায়গা না হওয়ায় পণ্য খালাসের জন্য বুড়িমারী স্থলবন্দরে অপেক্ষা করছে ভারত থেকে আসা আমদানি পণ্যের শতাধিক ট্রাক। এতে স্থলবন্দরে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। এই ঘটনায় অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে ভুট্টা ও চাল আসছে। বন্দরে তিনটি গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। গুদামগুলো পণ্যভর্তি হয়ে আছে। সে কারণে আমদানিকৃত চাল ও ভুট্টা গুদামে রাখা যাচ্ছে না।
ভারতের পাঞ্জাব থেকে চাল নিয়ে আসা ট্রাক চালক এস সাধন রায় বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে চালের ট্রাক নিয়ে খুব সমস্যায় ছিলাম। আজ খালাস হয়েছে। বের হয়ে যাচ্ছি। আমাদের ঐদিকে চ্যাংরাবান্ধা শুল্ক স্টেশনে (ভারতে) অনেক চালের গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের গাড়ি এপারে আসার অপেক্ষায় আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে চাল নিয়ে আসা ট্রাক চালক মফিদুল ইসলাম বলেন, ট্রাকের জট তৈরি হয়েছে। গাড়ি ঢোকানো যায় না। শুনেছি জায়গার অভাবে আনলোড করা যাচ্ছে না। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় সকাল থেকে দাঁড়িয়ে। কখন কী হবে বুঝতে পারছি না। স্থানীয় শ্রমিক নেতা তোসাদ্দেক হোসেন আলম বলেন, বন্দরের জায়গা ছোট। মাত্র তিনটা শেড। চাল, গম, ভুট্টার অনেক ট্রাক এসেছে। শ্রমিকরা কাজ করার জায়গাও পাচ্ছে না। অনেক শ্রমিক রোদে খোলা জায়গায় বেশি সময় ধরে কাজ করতে পারে না। বন্দরের জায়গা বাড়ানো উচিত।
বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রুহুল আমীন বাবুল বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মেটাতে ও চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি করছে আমদানিকারকেরা। এখানে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। যানজটের তৈরি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কাস্টমস ঘোষিত এলাকার মধ্যে প্রাইভেট ওয়্যারহাউজে খাদ্যশস্য খালাসের অনুমতি চেয়ে অনুরোধও করা হয়েছে।
স্থলবন্দর এলাকায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন খাদ্যশস্যের গাড়ি আসছে। গাড়ির সংখ্যা বেশি। এত গাড়ি খালাস করার জায়গা বন্দরে নেই। জায়গা সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক রুহুল আমীন বলেন, আমি করোনায় আক্রান্ত। সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলব।
