ক্লাব ব্রুজের মতো দশটা ক্লাব কেনার ক্ষমতা আছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি)। কিন্তু তাতে ব্রুজেরই বা কী আসে যায়। ফুটবলে মাঠের পারফরম্যান্সই তো শেষ কথা। যেই পারফরম্যান্স দিয়ে না জিতেও যেন জয়ী বেলজিয়ান ক্লাবটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাটিতে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে তারকাখচিত পিএসজিকে। রুখে দিয়েছে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে খেলতে নামা নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসিকে।
শক্তিশালী এই আক্রমণত্রয়ীকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষাটা পিএসজি ভক্তদের মৌসুমের শুরু থেকেই। আশায় ছিল গোলবন্যার কিংবা ছন্দময়ী পারফরম্যান্সের। কিন্তু হলো এর বিপরীতটাই। যা দেখে হতাশায় বাড়ি ফিরেছে তারা। ১৫ মিনিটে আন্দের হেরেরার গোলে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট ছাড়া বিশেষ কোনো অবদান নেই এই ত্রয়ীর। অবশ্য মেসির একটি শট পোস্টে না লাগলে ভিন্ন কিছু হতে পারত। আর নেইমার যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। তাই ম্যাচে সমতায় ফিরতে ১২ মিনিট সময় নেয় ব্রুজ। এদুয়ার্দ সোবলের পাস থেকে গোলটি করেন হান্স ভানাকেন। আর ম্যাচ-সেরা হন ব্রুজের নোয়া লাং।
‘এনএমএম’ খ্যাত ত্রয়ীর রুদ্রমূর্তি দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে বললেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো, ‘তাদের একসঙ্গে জ্বলে ওঠার জন্য সময়ের দরকার। আরো অনেক কাজ করতে হবে। আমি আগেও বলেছি, যে আমরা এখনো দল হয়ে গড়ে ওঠিনি। সেজন্য কাজ করতে হবে আমাদের।’
‘এ’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে গোল উত্সবে মেতেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৬-৩ গোলের বড় জয় পায় স্বাগতিকরা। দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেও তাই হাসি ছিল না লাইপজিগের ক্রিস্টোফার এনকুনকুর মুখে। গোলের মালা বসিয়েছিল আয়াক্সও। একটি গোল খাওয়ার বিপরীতে স্পোর্টিং সিপির জালে ৫ বার বল পাঠায় তারা। এর চারটিই আবার সেবাস্তিয়েন হেবারের।
তবে রাতের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটা হয়েছে অ্যানফিল্ডে। তা যেন অবধারিতই ছিল। এই ম্যাচে যে বুক কাপবে আগের দুই দেখায় সেটাই বুঝিয়েছে লিভারপুল-এসি মিলান। ৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির আগ মুহূর্তে পরপর দুটি গোল করে ম্যাচে ফিরে মিলান। কিন্তু বিরতির পর ৪৮ মিনিটে অলরেডদের সমতায় ফেরান মোহাম্মদ সালাহ। আর ৬৯ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন।
এদিকে খানিকটা রোমাঞ্চ ছিল সানসিরোতেও। ৮৮ মিনিটে পর্যন্ত আটকে থাকার পর রদ্রিগোর একমাত্র গোলে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
একনজরে
বেসিকতাস ১-২ ডর্টমুন্ড
শেরিফ ২-০ শাখতার
ইন্টার ০-১ রিয়াল
অ্যাটলেটিকো ০-০ পোর্তো
ব্রুজ ১-১ পিএসজি
লিভারপুল ৩-২ এসি মিলান
ম্যানসিটি ৬-৩ লাইপজিগ
স্পোর্টিং সিপি ১-৫ আয়াক্স
