সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা-প্রজেক্ট চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য বিমানবন্দর সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সেটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা রাস্তাটি এখনো মেরামত করছেন না। এ ব্যাপারে ঠিকাদারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিপিসি-এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তারা এ পর্যন্ত বিটুমিন বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে ভগ্ন সড়কের সংস্কার ও নির্মাণকাজে হাত দিতে পারছেন না।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগাপ্রকল্প চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহাফুজুর রহমান এই প্রকল্পের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর সড়কের সংস্কার ও নির্মাণকাজের জন্য বিটুমিন চেয়ে গত ২১ জুন বিপিসি-এর স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) মহাব্যবস্থাপকের কাছে চিঠি দেন। ঠিকাদাররা জানান, গত তিন মাসে ‘এসএওসিএল’ তাদের বিটুমিন সরবরাহ দিতে পারেনি। ফলে তারা সড়ক সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অংশের নির্মাণে হাত দিতে পারেননি। সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে চিঠির মাধ্যমে গত ৭ সেপ্টেম্বর অবহিত করেছেন। ঠিকাদাররা জানান, এই মুহূর্তে তাদের প্রয়োজন ২ হাজার টন বিটুমিন। কিন্তু এই চাহিদাটুকুও বিপিসি পূরণ করতে পারছে না। এদিকে, বিপিসি-এর পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএকে (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) বিটুমিন বরাদ্দ নেওয়ার জন্য চাহিদা জানিয়ে নতুন করে চিঠি নিয়ে আসতে হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, বিমানবন্দর সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কারপেটিংসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে। ফলে যানবাহন ভালোভাবেই চলাচল করছে। তার মতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংশ্লিষ্ট সড়কের মধ্যে বারেকবিল্ডিং মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খারাপ। তবে সেখানে মেইনটেনেন্স কাজ চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ তারা অনুকূল আবহাওয়ায় পুরোদমে শুরু করবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, এই প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য ‘এসএওসিএল’ বিটুমিন দিতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় বিটুমিন সরবরাহে বিকল্প কী পথ আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বিটুমিনের জন্য বিপিসি-এর পরিচালক, অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যোগাযোগ করলে বিকল্প পন্থায় বিটুমিন পেয়ে যাবেন বলেও জানান।
