আড়াই বছরে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৬

গত আড়াই বছরে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শীর্ষ ব্যক্তির নাম যুক্ত হয়েছে। কঠিন শাস্তি না হওয়ায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। এঘটনায় তাকে চার বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদধারীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে আক্কাছ আলীকে  ঘরে বসে বেতন নেওয়ার  ব্যবস্থা করা হয়। পরে উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের সময়েও মো. আক্কাছ আলীর বিষয়ে পুনরায় তদন্ত হয়। প্রথম তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও মো. আক্কাছ আলী সেটিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ঐ একই বছরের ১৩ নভেম্বর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও তত্কালীন সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, এ বছরের ২৩ মে স্থাপত্য বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শান্তনু বিশ্বাস লিংকনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তদন্তের মুখে ঐ শিক্ষক চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে তার প্রাপ্ত বেতন-ভাতা আটকে রাখা হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাবেক এই শিক্ষক বলেন, আমি যৌন হয়রানি করিনি। অভিযোগটি মিথ্যা।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একদল লোক আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এমনটা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, এই চার শিক্ষক ছাড়াও আরো কয়েক জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। সে ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। সবগুলো ঘটনার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বার বার শিক্ষকদের যৌন কেলেঙ্কারির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে হয়তো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না। সে সঙ্গে এ ধরনের কাজ করার সাহস কেউ পেত না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রধান ও আইন বিভাগের শিক্ষক মানসুরা খানম বলেন, আমরা কোনো অভিযোগ পেলে তার সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করি। বিশ্ববিদ্যালয় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য ড. রাজিউর রহমান বলেন, কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত আছে। বিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।