তীব্র গ্যাস-সংকট :এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে সমস্যা সমাধানের দাবি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পকারখানার উত্পাদন। দেশীয় বস্ত্রশিল্পগুলো সক্ষমতার ৭০ শতাংশই ব্যবহার করতে পারছেন না গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোটায়। এ পরিস্থিতিতে সংকটের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) নেতৃবৃন্দ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ                সম্মেলনে তারা বস্ত্রশিল্পে জ্বালানি সংকটের তীব্র পরিস্থিতি ও উত্পাদন ব্যাহত হওয়া এবং আগামী দিনে সংকট নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। তিনি বলেন, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিলের অধিকাংশই ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যেখানে মূল জ্বালানি হিসাবে গ্যাসই অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।   ফলে যে সব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে তাদের উত্পাদন কার্যত বন্ধ রয়েছে।

সদস্য মিল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, সাটুরিয়া মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে অবস্থিত বিটিএমএ-এর কিছু সদস্য মিলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সর্ব নিম্ন পর্যায়ে তথা ১ দশমিক ৫০ পিএসআই এ নেমে গেছে। ফলে মিলগুলো স্থাপিত মেশিনারিজের সক্ষমতার ৭০ শতাংশ অব্যবহূত থাকছে।

 মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। কিন্তু বস্ত্রখাত সম্পর্কে সাধারণ জনগোষ্ঠীসহ সব মহলে এক ধরনের  নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। আমরা আশঙ্কিত যে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির এ অবস্থা   অব্যাহত  থাকলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে দেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যে। আমাদের  মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই অর্জিত হয় টেক্সটাইল ও ক্লদিং সেক্টর থেকে। ফলে  এ খাতটিকে সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য গ্যাস অন্যতম অনুষঙ্গ। যারা স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকলে সামগ্রিক রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। তদুপরি, বিশ্ববাজারে সুতার দাম অস্থিতিশীল। তব দেশের পোশাক খাতের স্বার্থে সুতার দাম নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না হলে, বর্তমান সংকটের সমাধান না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে না। তদুপরি, গ্যাসের  পর্যাপ্ত এবং অব্যাহত সরবরাহ  না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত মেশিনারিজ এবং স্পেয়ার পার্টসের ক্ষতিসাধন হচ্ছে। উত্পাদনও সর্ব নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নীতিনির্ধারকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করা যেতে পারে। নইলে বর্তমান পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ব্যাংক ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধসহ ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য খরচ মেটানো দুঃসাধ্য হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ-এর অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের লো-প্রেশার সম্পর্কিত মিটারের ছবি ও প্রাপ্ত গ্যাসের সর্বশেষ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।