মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
ফলে সাধারণ মানুষের মনে এক্সরে সম্পর্কে এক ধরনের ভয় ঢুকে গিয়েছিল। নিজের ইচ্ছায় কেউই এক্সরে ছবি তুলতে এগিয়ে আসত না।
তাহলে প্রথম কোন রোগির এক্সরে করা হয়েছিল?
প্রথম যে রোগির এক্সরে করা হয়, তার নাম এডি ম্যাকাথির, হাতের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল তার। বইটি প্রকাশের বিশ দিন পর তাঁর ছবি তুলতে হয়। ডাক্তাররা এক্সরে এর মাধ্যমে শনাক্ত করে এডি ম্যাকাথিরের হাতের হাড় ভালো করে তুললেন। চিকিত্সাবিজ্ঞানে এই রোগির নাম লেখা থাকল।
রেখা বলল-রন্টজেন খুবই চমত্কার কাজ করেছেন। মানুষের সরাসরি উপকারে লাগার মতো।
নীলকান্তবাবু বললেন, হ্যাঁ, এই কাজের জন্য রন্টজেনকে ১৮৯৬ সালে রানফোর্ড পদক দেওয়া হয় এবং ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
রন্টজেন্ট রশ্মির গল্প শেষ করে নীলকান্তবাবু আর রাতের খাবার খাননি। শরীর খারাপ লাগছে বলে ঘুমোতে গেলেন।
রাতে হঠাত্ করে তাঁর জ্বর বেড়ে গেল। কমলা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন, কী করা যায়। একটা রুমাল ভিজিয়ে কপালে জলপট্টি দিলেন। কিছুক্ষণ পরপর ন্যাকড়াটা ভিজিয়ে দিতে থাকলেন, আর আরেকটা প্যারাসিটামল খাইয়ে দিলেন।
সকালে অবস্থার আরও অবনতি হলে তিনি সীমাকে বললেন একটা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে। তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। সীমা আর অণুকে নিয়ে তিনি ছুটলেন হাসপাতালে। গতকালের পরীক্ষার রিসিটগুলো নিলেন, রিপোর্ট নিয়ে এসে ডাক্তারকে দেখাতে হবে।
রেখা, চন্দ্রা, আকাশ আর বিন্দুকে বললেন, তোমরা লক্ষ্মী ছেলেমেয়েদের মতো বাসায় থাকো।
নীলকান্তবাবু বললেন, আমার কি করোনা হয়েছে?
কমলা বললেন, আমরা এখনও জানি না। ডাক্তার বলবে।
নীলকান্তবাবু বললেন, একটা কথা বলব, রাগ করবে না তো?
কী কথা?
তোমাকে এখন খুব সুন্দর দেখাচ্ছে।
তাই? কিন্তু এতে রাগ করার কী আছে!
না বলছিলাম, আমি যদি মারা যাই, আমার ডেডবডিটা পুড়িয়ে দিয়ো না।
কমলা নীলকান্তবাবুর ঠোঁটে আঙ্গুল দিলেন, কথা আটকে দেবেন। কিন্তু পারলেন না। নীলকান্তবাবু আঙ্গুলের বাধা সত্ত্বেও এক চোটে বলে ফেললেন, ডেড বডিটা যে কোনও একটা হাসপাতালে দিয়ে দিও। ছেলেমেয়েরা প্র্যাকটিকেল করবে, তাদের জ্ঞান বাড়বে, মানুষের কাজে লাগবে।
