পর্দায় চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা নিজের মাঝে বরাবরই ধারণ করেন অভিনেতা সাজু খাদেম। হুমায়ুন ফরিদীর অভিনয়ের প্রভাব তার মাঝে রয়েছে বলে অনেকেই বলে থাকেন। নিজের চলমান ব্যস্ততা ও ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ নিয়ে জানতে চাই—
‘নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিং করছি। পাশাপাশি ‘বউ শ্বাশুড়ি’, ‘ভালোবাসা ভালোবাসি’, ‘একশ-তে-১০০’সহ বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ শেষ করলাম। পাশাপাশি আরো কিছু কাজের প্রস্তুতি চলছে।
হুমায়ুন ফরিদীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক দারুণ ছিল। অনেকেই বলেন তার প্রভাব আপনার ভেতরে রয়েছে। আদৌ কী সাজু ফরিদীকে কপি করেন?
আসলে ফরিদী ভাইকে দেখে দেখেই তো আমরা বড় হয়েছি। ওনার অভিনয় দেখেই অভিনয় শিখেছি। তাতে তার কিছুটা প্রভাব যে আমার মাঝে পড়েনি সেটা অস্বীকার করব না।
কাজের পরিধি বাড়ায় মানহীন কন্টেন্টের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেগুলো ভাইরালও হাচ্ছে। অনেকেই এর জন্য দর্শক চাহিদাকে সামনে আনছেন। আপনি কী মন্তব্য করবেন?
মানহীন কাজ সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু মানহীন কাজগু দিয়ে নাটককে বিচার করা যাবে না। মানহীন কাজ সবসময় মানহীনই থাকবে। এ ধরনের কাজ হয়তো সময়ের চাহিদায় হচ্ছে, তবে কালোতীর্ণ হবে না, সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাবে। তাছাড়া এখন প্রচুর ভালো ভালো কাজ হচ্ছে এবং দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিনশেষে ভালো কাজগুলোই থেকে যাবে।
এখন একটি নাটক জনপ্রিয়তা পেলে সেটাকে কপি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই চর্চার কারণে সৃজনশীল কাজ কম হচ্ছে বলে মনে করেন না?
অনেকেই ফেক খেলতে চায়। মনে করে এই নাটকটি ভালো হয়েছে, দর্শক গ্রহণ করেছে, তাহলে কপি করে দুটি নাটক বানিয়ে ফেলি। তবে সকলেই তো এই চর্চা করে না। অনেকেই মৌলিক গল্প নিয়ে কাজ করছেন।
নাটক জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারি করতে পারছে না কেন?
জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, কী পাচ্ছে না সেটা এখন বলা যাবে না। আরো ২০ বছর পর এই নাটকগুলোর প্রভাব আমরা বুঝতে পারব। তাছাড়া এখন এত বেশি চ্যালেন যে নাটক ফোকাস করাটাও কঠিন। তারপরও কোনো নাটক এই সময়ে জনপ্রিয় হলে বুঝতে হবে সেটা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো হয়েছে।
নাটকের মাধ্যমে ভাষাকে বিকৃত করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বাইরের দেশে আমাদের ভাষা সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে মনে করছেন না?
এটা একটা স্থুলতা। একটি নাটকে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা দিয়ে দর্শক আকর্ষণের কোনো মানে হয় না। একটা অঞ্চল নিয়ে নাটক করলে সেখানের ভাষাই ব্যবহার করা উচিত। অন্য ভাষা ব্যবহার করলে তার যৌক্তিকতাও প্রমাণ করা দরকার।
জোর করে ভাঁড়ামোর পাশাপাশি নাটককে শুধু বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত করা হচ্ছে। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা সূরে যাচ্ছি না?
নাটক কিন্তু বিনোদনেরই মাধ্যম। বিনোদনের সঙ্গে কোনো ম্যাসেজ দর্শক পেলে সেটা বাড়তি পাওনা আমাদের জন্য। তবে হ্যাঁ, যেহেতু নাটক সমাজের গল্পেই তৈরি হয় সেহেতু কোনো না কোনো বার্তা একটি নাটক থেকে আমরা পেয়ে থাকি। এখানে মাথায় রাখতে হবে কন্টেন্টটি পজিটিভ প্রভাব ফেলতে পারছে কি-না!
ভিউগোনা একটি ট্রেন্ড এখন চলমান। এই চর্চাটি পীড়াদায়ক মনে হয় কি-না?
আমি কোনোকিছুকেই পীড়াদায়ক মনে করি না। এটা আসলে সময়ের একটি চাহিদা। আমাকে টিকে থাকতে হলে কোয়ালিটি দিয়েই টিকে থাকতে হবে। হ্যাঁ, হয়তো অনেকেই ভিন্ন উপায়ে দিয়ে ভিউ বাড়াচ্ছে। তবে এই উপায়ে বেশিদিন টিকে থাকা যাবে না।
এখন অনেকেই না শিখে অভিনয় বা নির্মাণ আসছে। এতে কাজের মান নিম্নমুখী হচ্ছে না?
দেখুন, অভিনয় শেখার তো তেমন ইনস্টিটিউট আমাদের দেশে নেই। তবে আমার কাছে শিক্ষার বিষয়টি ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি শিখতে চায় যেকোনোভাবেই শিখতে পারে। সাময়িক ঝলক দেওয়া মানুষগুলো ঠিক হারিয়ে যাবে। আর মেধাবীরাই জায়গা তৈরি করে নেবে।
ওটিটি মাধ্যমটি নিয়ে শুরুতেই সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। এতে আপনাদের কাজের সুযোগ কেমন দেখছেন?
যেকোনো প্লাটফর্মই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য আসে। সেখানে যে-ই কাজ করুক সেটা সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করলে কোনো কথা নেই। আর সিন্ডিকেট সব মাধ্যমেই রয়েছে। এটা নিয়ে আমি ভাবি না।
