টেকনিশিয়ান না থাকায় চলছে না এক্সরে মেশিন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৭

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে চালানোর টেকনিশিয়ান নেই প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। এ কারণে নতুন ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটিও পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে নতুন একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয় রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু স্থাপন করা হলেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।

হাসপাতালে এক্সরে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত রোগী বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অধিক মূল্যে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাদের এক্সরে করিয়ে আনতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা গেছে, ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চিকিত্সা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০০৭ সালের জুন মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন একটি আধুনিক এক্সেরে যন্ত্র দেওয়া হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় যন্ত্রটি আর ব্যবহূত হয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ফের আরো একটি ডিজিটাল নতুন এক্সরে যন্ত্র এসেছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য। কিন্তু এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখনো এটি ব্যবহারের জন্য কোনো লোক দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে গড়ে ৫০০ রোগীকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জন রোগীর এক্সরের প্রয়োজন হয়।

উপজেলার বামনী ইউনিয়নের মুনছুর আহম্মেদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের সমস্যা নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা দ্রুত এক্সরে করতে বলেন। হাসপাতালের এক্সরে মেশিন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্সরে করিয়ে আনি। অথচ হাসপাতালের এক্সরে মেশিন দিয়ে করালে মাত্র ৫৫ টাকা খরচ হতো।

রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাহারুল আলম বলেন, এক্সরে মেশিন পরিচালনায় টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদটি পূরণের জন্য গত এক যুগ ধরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এরপরও কোনো লাভ হচ্ছে না। টেকনিশিয়ান না থাকায় আগের মেশিনটিও নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন মেশিনটি স্থাপন করা হলেও রোগ নির্ণয়ের কাজে এখনো লাগেনি। মেশিনটি চালু হলে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এক্সরে করাতে পারতেন।