তাড়াশে সোতিজাল পেতে মাছ নিধন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৭

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

তাড়াশে হাটিকুমরুল বনপাড়া সড়কের ৯ নম্বর সেতুসহ ভদ্রাবতী নদীতে একাধিক স্থানে অবৈধ সোতিজাল পেতে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে মাছের সঙ্গে আটকা পড়ে মরে যাচ্ছে আরো অনেক জলজ প্রাণী। সোতিজালে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে খেতে সময়মতো সেচের পানি না পেয়ে রবিশস্য আবাদ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের ভুক্তভোগী জেলে শব্দের আলী, আক্কাছ আলী ও চর হামকুরিয়া গ্রামের জেলে খাদেমুল ইসলাম বলেন, এ বছর বর্ষার পানিতে মাছ কম। এরপরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সোতিজাল পেতে মাছ শিকার করছেন। ফলে আমাদের মতো জেলেদের মাছের দেখা পাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের কৃষক শামছুল আলম ও মফেল আলী জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমন ও আউশ ধানের আবাদ করা সম্ভব হয়নি। এরপর রবিশস্য করা না গেলে তাদের মতো কৃষিনির্ভর মানুষজনকে আর্থিক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে।

জানা গেছে, হাটিকুমরুল বনপাড়া সড়কের ৯ নম্বর সেতুতে বড় দুটি সোতিজাল পেতে রাখা হয়েছে। সেখানে পানির নিচে বাঁশ পুঁতে বিশেষ কৌশলে জালগুলো পাতা হয়েছে। এসব জাল থেকে রাতের শেষ ভাগে একবার মাছ সংগ্রহ করা হয়। আরেকবার সন্ধ্যার পরে। এই সময় ওত পেতে না থাকলে নিজ চোখে মাছ নিধনের কর্মযজ্ঞ দেখা সম্ভব নয়।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর দুই নৌকা করে চার জন ব্যক্তি সোতিজাল থেকে মাছ সংগ্রহ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯ নম্বর সেতু এলাকার এক দোকানদার বলেন, সোতিজাল পেতেছেন হামকুরিয়া খানপাড়ার লোকজন। কিন্তু তিনি কারো নাম জানাতে পারেননি। এ দিন ভদ্রাবতী নদীরও রানীহাট এলাকা থেকে বারুহাস গ্রাম পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে সোতিজাল দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, ভদ্রাবতী নদীর সোতিগুলোয় একবার অভিযান চালানো হয়েছে। ৯ নম্বর সেতুর সোতিজালের বিষয়ে জানা ছিল না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব স্থান থেকে সোতিজাল অপসারণ করা হবে।