কাপ্তাইয়ে পাহাড়ে কলার চাষ বাড়ছে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৮

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

কাপ্তাইসহ পার্বত্য এলাকায় এবার কলার ভালো ফলন হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে দাম ভালো থাকায় খুশি চাষিরা। এসব কলা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাপ্তাই উপজেলাসহ রাঙ্গামাটি জেলা এবং বৃহত্তর তিন পার্বত্য জেলার অসংখ্য পাহাড়ে বছরের পর বছর কলার চাষ হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় মোট কত পরিবার কলার বাগান করছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কাছে নেই। এমনকি কাপ্তাই উপজেলায় কত পরিবার কলার বাগান করছেন তার হিসাবও নেই। কাপ্তাই উপজেলার চিত্মরম, ওয়াগ্গা এবং রাইখালী ইউনিয়নে বেশি পরিমাণ কলা বাগান দেখা যায়। তবে চন্দ্রঘোনা এবং কাপ্তাই ইউনিয়নেও প্রচুর পরিমাণে কলার বাগান রয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা ছাড়াও রাজস্থলী, কাউখালী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, লংগদু, বরকল, বাঘাইছড়িসহ রাঙ্গামাটি জেলার অন্যান্য সব উপজেলায়ও প্রচুর কলা উত্পন্ন হয়। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশির ভাগ উত্পাদিত কলা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভর্তি করে কাপ্তাই জেটিঘাটে আনতে দেখা যায়। এসব কলা ট্রাকযোগে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করা হয়।

কলা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের কলা আকারে বড়, হূষ্টপুষ্ট ও সুস্বাদু হয়। সে কারণে এখানকার উত্পাদিত কলার চাহিদা সর্বত্র। বছরের সব সময় কলার চাষ হয় বিধায় আমরা সারা বছর এখান থেকেই কলা কিনে চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় পরিবহন করে আসছি। তবে গত প্রায় দেড় বছর কলার ব্যবসা করে সুবিধা হয়নি বলেও তিনি জানান।

বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের কলাচাষি লালন চাকমা বলেন, করোনার কারণে গত প্রায় দেড় বছর আমরা কলা বিকিকিনি করতে পারিনি। যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বিয়ে বা বড় কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। যে কারণে কলা চাষ করে লোকসানে পড়তে হয়েছে। তবে এবার কলার ফলন ও দাম দুটিই ভালো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মির্জা শামসুল আলম চৌধুরী জানান, এবার বিভিন্ন পাহাড়ে কলার ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো আছে। আশা করি, চাষিরা এবার কলা চাষ করে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।