শিবগঞ্জে পদ্মায় তীব্র ভাঙন কৃষিজমি ও বাড়িঘর বিলীন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৯

১৩০ পরিবার হুমকিতে

মোহা. সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বাড়িঘর ও কৃষিজমি। দুই মাসের ব্যবধানে পাঁকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ৩০০ পরিবারের মধ্যে প্রায় ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরো প্রায় ১৩০টি পরিবার চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিলীন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার বিঘা আমবাগান, বাঁশবাগান ও ফসলি জমি। মসজিদ ও গোরস্থান বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার অনেক মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।  শুক্রবার দিনব্যাপী সরজমিনে গেলে চর লক্ষ্মীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামের সহিমুদ্দিন মড়ল (৯২) বলেন, ‘এবার নিয়ে আমার জীবনে পাঁচ বার নদীভাঙনের কবলে পড়েছি। এবার শেষবারের মতো ভাঙনের কবলে বোগলাউড়ি গ্রামের (বর্তমানে নতুন কানছিঁড়া নামে পরিচিত) নজরুল ইসলাম হাজির বাড়ির উঠানে ছোট একখান খুপরি তুলে বাস করছি। এর আগে বারবার ভাঙনের কবলে পড়ে শেষে চরলক্ষ্মীপুর জ্যাটপাড়া গ্রামে কয়েক কাঠা জমি বর্গা নিয়ে কোনোরকমে দিনাদিপাত করছিলাম। সেটাও গত সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকার শতধিক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ফলে নৌকাযোগে কেউ বোগড়াউড়ি ঘাট এলাকায় অন্যের জমিতে, কেউ দুর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের দুই দিকে অস্থায়ীভাবে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন (৬০), আলাউদ্দিন, মিঠু, জিয়ারুল ইসলাম, পারুল ইসলাম, সুমন, শেফালী বেগম, জোসনা বেগম, সাদিকুল ইসলাম, আতাবুর রহমানসহ প্রায় ৫০-৬০ জন নারী-পুরুষ  জানান, গত দেড় মাস ধরেই চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের জ্যাটপাড়া, ক্যাইঠাপাড়া, মোড়লপাড়া, ডাক্তারপাড়া, বহরাপাড়া, কলিমুদ্দিন বিশ্বাসের পাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙন চলছে। তার মধ্যে  কয়েক দিনের ভাঙন খুব জোরে শুরু হয়েছে। আমরা কোনো উপায় না পেয়ে বোগলাউড়ি ঘাটের দুই পাড় ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের দুই পাশে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেওয়ার চেষ্টা করছি। চরলক্ষ্মীপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বারী জানান, বর্তমানে চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। পদ্মা নদীর ভাঙনে ৩০০ পরিবারের মধ্যে ১৭০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো ১৩০টি পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘চরলক্ষ্মীপুর এলাকার ভাঙন সম্পর্কে জেনেছি। দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’