মিউচুয়াল ফান্ড :দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষণীয়

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

আলি জামান

 

দেশে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে আমানতের সুদহার বেশি রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এভাবে আমানতের বিপরীতে সুদ দিতে গেলে, আর সেই সঙ্গে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ রাখতে গেলে তো ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া হয়ে হতে হবে। কারণ, এখন মূল্যস্ফীতির গড় হার ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পৃথিবীর প্রায় সব শিল্পোন্নত দেশে কোথাও ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি হয় না। কারণ, তার ফলে শিল্প-ব্যবসার কস্ট অফ ফান্ড বেড়ে যায়, আর পরিণতিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারায়। এ সমস্যার সমাধানে বেশির ভাগ দেশে আমানতের সুদহার নামমাত্র রাখা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে আমানতের জন্য সুদ দেওয়া দূরে থাক, উপরন্তু চার্জ আদায় করা হয়। সেক্ষেত্রে আমানতকারীদের পরোক্ষে পুঁজিবাজার তথা শেয়ারবাজার আর বন্ডে বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে এর বিপরীত ব্যবস্থা থাকবে কেন?

এদেশেও পুঁজিবাজার তথা বন্ড আর শেয়ারবাজার বিদ্যমান রয়েছে। যাদের বিনিয়োগযোগ্য সঞ্চিত অর্থ আছে, সেখানেই তো বিনিয়োগ করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সাধারণ মানুষ আমাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ভয় পায়। কিন্তু কেন? কারণ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। তার পরেও মানুষ সেই ঝুঁকি নিয়েই বিনিয়োগ করতে অনাগ্রহী নয়। তাদের ভয়, শেয়ারবাজারের লুটেরাদের নিয়ে। শেয়ারবাজারের সাধারণ ঝুঁকি মেনে নিতে মানুষ রাজি আছে। কিন্তু এখানে তাদের কষ্টার্জিত বিনিয়োগ করা অর্থ কেউ লুটেপুটে নিয়ে যাবে, স্বাভাবিকভাবেই তারা এতে সম্মত হবে না। ঘরপোড়া মানুষ সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। ১৯৯৭ আর ২০১০ এর অভিজ্ঞতা তাদের চোখের সামনে ভাসে। তারা দেখেছে, কীভাবে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ লোপাট হয়ে গেছে। অথচ তার কোনো বিচার হয়নি। বর্তমান পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান আগের থেকে যথেষ্ট সক্ষম আর শেয়ারবাজারের প্রতি আন্তরিক থাকলেও, এখনো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরত আনতে পারেনি। তবে বিএসইসির কিছু কিছু কাজ মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে, এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান হলো, মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট ফান্ড, পেনসন ফান্ডগুলোই শেয়ারবাজারের মূল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। পৃথিবীর সেইসব পুঁজিবাজার উন্নত, যাদের বাজারে এইসব ফান্ডের কন্ট্রিবিউশান তথা ক্যাপিটালাইজেশন বেশি। ভারতে এর পরিমাণ ৪০ শতাংশ হলেও, আমাদের দেশে এর পরিমাণ ১ শতাংশের বেশি নয়।

এখন কিন্তু নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের চাপে পড়ে মিউচুয়াল ফান্ড ম্যানেজাররা অনেকটা পথে এসেছে। তাদের বিনিয়োগ সংহত হয়েছে, যার পরিণতিতে ভালো ডিভিডেন্ডও দিয়েছে। এদের প্রদত্ত ‘ডিভিডেন্ড ইল্ড’ এখন মূল্যস্ফীতির অনেক ওপরে দৃশ্যমান হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক। মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশনা বিনিয়োগকারী, এমনকি ব্যাংকগুলোরও মাথাব্যথার কারণ হবে না।

 

লেখক : সভাপতি, এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

অব বাংলাদেশ।