এম নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদীভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার হরগজ পূর্ব নগর এলাকায় এই ভাঙন শুরু হলে গত কয়েক দিনে এর তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনে অনেকে বসতভিটা হারিয়েছেন। ভেঙে গেছে গ্রামের প্রধান সড়ক। ঝুঁকিতে হরগজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার রাস্তা ও বসতবাড়ি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হরগজ পূর্ব নগর এলাকায় আলম হোসেনের স্ত্রী সাবজান ভারাক্রান্ত মনে নদীর পাড়ে বসে আছেন। এভাবে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘রাক্ষসী নদী আমাদের বাড়িঘর সব কেড়ে নিয়ে পথের ভিখারি বানিয়েছে। ভিটেমাটি সব শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। ’
হরগজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এখনি ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কিছু দিনের মধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে স্কুলসহ খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট ও বসতি। স্থানীয় এলাকাবাসী আব্দুল হাকিম আলী, আব্দুল বারেক ও ইনু মিয়া বলেন, হরগজ পূবনগর গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতভিটাসহ প্রাইমারি স্কুল ভাঙনের কবলে রয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খানকে জানানো হয়েছে। এখনি নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
হরগজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার সহায়তা দিয়েছেন। ঘটনাটি সাটুরিয়া ইউএনওকেও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে বিস্তারিত জানানো হবে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
