নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তান সিরিজ বাতিল করল নিউজিল্যান্ড

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫১

স্পোর্টস ডেস্ক

টসের কিছুক্ষণ আগে দুই দলকেই বলা হলো হোটেলে থাকতে। স্বভাবতই শুরুতে ভাবনা এসেছিল করোনা পজিটিভ হয়েছেন কেউ। সেই কারণেই পিছিয়ে না হচ্ছে ম্যাচের সময়। কিন্তু না, নিরাপত্তা ইস্যুজনিত কারণ দেখিয়ে প্রথম ওয়ানডের আগেই পুরো পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। ১৮ বছর পর পাকিস্তানে এসে কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে যায় তারা।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (এনজেডসি) দাবি, পাকিস্তানে তাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার হুমকির মাত্রা ক্রমশই অবনতি হচ্ছিল। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সিরিজ বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে  পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মতে, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রাখেনি তারা। তাই সিরিজ বাতিল করার কোনো মানেই হয় না। সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি এককভাবে নিউজিল্যান্ডের।   

এক বিবৃতিতে এনজেডসি জানায়, ‘লাহোরে পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলার আগে তিন ওয়ানডে ম্যাচের প্রথমটি রাওয়ালপিন্ডিতে খেলার কথা ছিল আজ (গতকাল)। তবে পাকিস্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড সরকারের নিরাপত্তা হুমকির অবনতি হওয়া এবং এনজেডসি নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ব্ল্যাকক্যাপরা এই সফর আর চালিয়ে যাবে না।’

তবে এনজেডসি এককভাবে সিরিজটি বাতিল করায় ক্ষুব্ধ পিসিবি। নতুন চেয়ারম্যান রমিজ রাজা তো কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তা। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘পাগুলে এক দিন। আমাদের খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য খুব খারাপ লাগছে। নিরাপত্তা হুমকির ব্যাপারে, একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে সফর থেকে চলে যাওয়া হতাশাজনক। বিশেষ করে যখন সেটা ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়নি। নিউজিল্যান্ড কোন জগতে বাস করছে। আইসিসিতে তারা আমাদের জবাব পাবে।’

রমিজের মতো সিরিজ না হওয়ায় হতাশ পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমও। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি লেখেন, ‘আকস্মিক সিরিজ স্থগিতের খবরে খুবই হতাশ, যা পাকিস্তানের লাখো ক্রিকেট ভক্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে আনতে পারত। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থার সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা আমাদের গর্ব এবং সর্বদা থাকবে।’

সিরিজটি বাতিল না করতে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘যখন আমি পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তখন তাকে আমাদের ক্রিকেট দলের দেখভাল করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। খেলা না হওয়াটা সবার জন্য কতটা হতাশার। তবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাতে আমরা পুরোপুরি সমর্থন করি। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সবার আগে।’

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের উপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি ছয় বছর পর। সাম্প্রতিক সময়ে আগের মতো নিয়মিত আন্তর্জাতিক খেলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ বছর তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলতে যায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাদের সিরিজ না খেলে চলে যাওয়াটা  বড় এক ধাক্কা পাকিস্তানের জন্য। সেই ধাক্কার মাত্রা আরো বাড়তে পারে যদি আগামী অক্টোবরে দেশটিতে আসতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে ইংল্যান্ড।