তালিকায় অনিয়ম

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর প্রকাশ করবে না বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১০

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ব্যবসা সহজীকরণে বিভিন্ন দেশের গৃহীত উদ্যোগ বিশ্লেষণ করে প্রতি বছর সূচক আকারে প্রকাশ করত বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এই তালিকায় বেশকিছু অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় গত বছর থেকে ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা সহজীকরণের সূচক প্রকাশ বন্ধ রেখেছে সংস্থাটি। ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে এই প্রতিবেদন আর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

২০১৮ ও ২০২০ সালে যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক প্রকাশ করা হয়, সেখানে তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়ায় (মেথডলজি) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঐ প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয় অক্টোবর ২০১৭ ও ২০১৯-এ। তাতে তথ্য-উপাত্তের যে পরিবর্তন পাওয়া যায়, তা ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরপর বিশ্বব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিষদ পরবর্তী ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি স্থগিত করে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করতে শুরু করে। তথ্য পর্যালোচনা করার পর বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার এ সূচক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর অক্টোবর মাসে এই সূচকের প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। গত বছরের আগস্টে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি টের পায় বিশ্বব্যাংক। এ কারণে ঐ বছরের অক্টোবরের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না বলে জানায় তারা। এছাড়া গত পাঁচটি প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য যাচাই-বাছাই করার কথা জানায় সংস্থাটি। ব্যবসা করার পরিবেশ কোথায় সবচেয়ে অনুকূল, তার নিরিখে ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে বিশ্বব্যাংক। এ রিপোর্টকে ভিত্তি করেই বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে সেই প্রতিবেদনেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চিলিসহ বেশ কিছু দেশ ডুইং বিজনেস তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। সে সময় মেথডলজি পরিবর্তন করায় তাদের এই অবস্থান নেমে যায়। চিলির তত্কালীন প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশলে প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এই র্যাংকিং এ রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ করেন। এরপর ২০১৮ সালে ঐ রিপোর্টে গলদের কথা প্রথম উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ পল রোমার। সে সময় তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যা চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়ে ব্যবহার করা হয়। ঐ পরিচালকের কারণে চিলির র্যাংকিং পিছিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৯ সালে প্রকাশিত ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে দেখানো হয় ১৬৮তম অবস্থানে। অবশ্য আগের প্রতিবেদনের চেয়ে আট ধাপ এগিয়ে আসে বাংলাদেশ। এর পরেও দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু আফগানিস্তানের ওপরে অবস্থান ছিল বাংলাদেশের।