অবৈধ পথে আসা বিদেশি সিগারেটে বাজার সয়লাব। প্রত্যেকের নাগালের মধ্যে দোকানে এ সব অবৈধ পথে আনা সিগারেট বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা লক্ষণীয়। আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন বিদেশি সিগারেট বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কাস্টমসের সংশ্লিষ্টদের অভিমত। একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশি সিগারেট আমদানি করে আসছে। বিশেষ করে শুল্কমুক্ত পণ্যের ঘোষণায় সিগারেট মদসহ অন্যান্য পণ্য বেশি আমদানি হয়ে থাকে। রপ্তানিমুখি পণ্যের কাঁচামাল এবং শিল্পের মেশিনারিজের আড়ালে মিথ্যা ঘোষণায় বেশি শুল্কের পণ্যসমূহ আমদানি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার দেশি বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের আড়ালে সিগারেটসহ অন্যান্য পণ্য আনা হয়। সিগারেটের ক্ষেত্রে শুল্ক, ভ্যাটসহ শতকরা ৬০০ ভাগ হওয়ায় মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির ক্ষেত্রে এই পণ্য অগ্রাধিকার পেতে দেখা যায়। দেশে মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশি সিগারেট প্রধানত চট্টগ্রাম কাস্টমস এবং ঢাকা বিমানবন্দরের মাধ্যমে আমদানি হয়ে থাকে। কাস্টমসের এক কর্মকর্তা তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, একবার নির্দিষ্ট একটি দেশ থেকে আসা একটি ফ্লাইটের অধিকাংশের লাগেজে তিনি বিদেশি সিগারেট পেয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃক গত এক বছরের পরিসংখ্যানে অন্তত ১২টি সিগারেটের চালান আটক করা হয়েছে। এর সবগুলোই কাপড়সহ শিল্পের কাঁচামাল, মেশিনারিজ এবং বাণিজ্যিকভাবে আমদানি পণ্যের মিথ্যা ঘোষণায় আনা হয়েছিল। পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিগারেট, মদসহ বেশি শুল্কের পণ্যের মিথ্যা ঘোষণায় পর্যায়ে আটক করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের মতে, মিথ্যা ঘোষণায় সিগারেট আমদানির সবচেয়ে ভালো রুট হচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। কারণ প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসে। এর খুবই নগণ্যসংখ্যক কনটেইনারের পণ্য কায়িক পরীক্ষা করা হয়। আন্তর্জাতিক কাস্টমসে রুলস অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতসংখ্যক কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা করা যাবে তারও একটি মাত্রা রয়েছে। আবার সকল কিংবা বেশির ভাগ কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা করতে হলে পণ্যের ডেলিভারি যেমন শ্লথ হয়ে পড়বে একইভাবে বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হবে। আবার রপ্তানিমুখী কারখানায় দ্রুত কাঁচামাল না পৌঁছালে উত্পাদন ব্যাহত হবে এবং রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই দেখা যায়, রপ্তানিমুখী কারখানার কাঁচামাল ছাড় করার ক্ষেত্রে কাস্টমস অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তাই অসাধু চক্র অনেকক্ষেত্রে কাস্টমসের এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে থাকে। দেখা যায় কাস্টমস প্রতিদিন আসা কনটেইনারের শতকরা ১০ ভাগ কায়িক পরীক্ষায় ফেলে। এর সঙ্গে সন্দেহজনক এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরো প্রায় শতকরা ১০ ভাগ কনটেইনারের পণ্য কায়িক পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। ফলে দেখা যায়, গড়ে প্রতিদিন শতকরা ৮০ ভাগ কনটেইনার কায়িক পরীক্ষা ছাড়া স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে খালাস হয়ে যায়। এই ৮০ শতাংশ কনটেইনারের ভেতরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি হলে অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। জানা যায়, বিদেশি সিগারেটেরে শতকরা ৯০ ভাগ মিথ্যা ঘোষণায় অবৈধভাবে আমদানি হয়ে থাকে।
