কুমিল্লায় জুমার নামাজের খুতবার আগে মসজিদে দ্বিতীয় আজান নিয়ে মুসল্লিদের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আবু হানিফ খান নামের এক মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১২ জন। শুক্রবার জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কুড়াখাল গ্রামের বাইতুন নুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু হানিফ ঐ গ্রামের আবদু খানের ছেলে। এ ঘটনায় মসজিদে জুমার নামাজ পণ্ড হয়ে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এ ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়াখাল বাইতুন নুর জামে মসজিদের ভেতরে ইমামের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ যাবত্ খুতবার আগে দ্বিতীয় আজানের (সানি আজান) প্রথা চালু ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে মসজিদের বারান্দায় খুতবার আজান চালু করা হয়। এ নিয়ে মসজিদের মুসল্লিদের দুই পক্ষের (সুন্নি গ্রুপ ও রিজভী গ্রুপ) মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার ঐ মসজিদের মোয়াজ্জিন আজান দিতে বারান্দায় গেলে এর প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক মাস্টারের সঙ্গে সহসভাপতি হাবিব খান তর্কবিতর্কে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তাদের দুইপক্ষ ছুরি, লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জুমার নামাজ পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় দুইপক্ষের সংঘর্ষে মসজিদের মেঝে রক্তাক্ত হয়। সংঘর্ষের সময় ছুরিকাঘাতে আহত আবু হানিফ খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুরাদনগর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় অন্তত আরো ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত আবুল খায়ের ও ইমন খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে এবং অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ঘটনায় শাহীন ভূঁইয়া নামে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
