যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ ফ্রান্স: ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বাতিল ফরাসি দূতাবাসের

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪০

অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা জোট গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনটি দেশ মিলে ‘অকাস’ নামের একটি নিরাপত্তা চুক্তিও করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ইউরোপীয় মিত্র ফ্রান্স।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পিঠে ছুরি মারার অভিযোগ এনেছে ফ্রান্স। ক্ষুব্ধ ফ্রান্সকে শান্ত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরই মধ্যে ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ফরাসি দূতাবাস। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

French ambassador's residence in Washington, D.C. - Wikipedia

গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ফ্রান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার। অনেক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্লিনকেন বলেন, আমরা খুবই জোরের সঙ্গে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরে ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা ন্যাটো, ইইউ এবং অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার উপায় খুঁজছি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্রদের মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার এবং ভবিষ্যতেও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে দুই দেশ।

France in The United States

ওয়াশিংটনে ফরাসি দূতাবাস তাদের একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা রাখা ফ্রান্সের নৌবাহিনীর ভূমিকা সহায়তা করেছিল। এই যুদ্ধের ২৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। কিন্ত শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে ফরাসি দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে বাল্টিমুরে শনিবারের একটি অনুষ্ঠা চলবে বলে জানিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠান বাতিল করার প্রকৃত কারণ জানায়নি ফরাসি দূতাবাস।

২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে ১২টি সাবমেরিন সরবরাহের কাজটি পেয়েছিলো ফ্রান্স। যদিও অনেক উপকরণ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে-ক্যানবেরার এমন শর্তের কারণে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হচ্ছিলো। কিন্তু সেইসব সাবমেরিন আর প্রয়োজন হবে না অস্ট্রেলিয়ার। চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-ইভেস লে ড্রায়ান বলেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পিঠে ছুরিকাঘাত করলো। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আগের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই আচরণ করছেন।

ইত্তেফাক/টিআর