মো. নুরুজ্জামান, সাবেক অধ্যক্ষ
হাতীবান্ধা এস.এস. সরকারি মডেল স্কুল এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ, লালমনিরহাট ।
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ আমি ২০২১-২২ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞান বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয় শ্বসনতন্ত্র
নিয়ে আলোচনা করছি। মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করো
৯. পূর্ণাঙ্গ মানবদেহে প্রায় ৪০ মিলিয়ন বা ৪ কোটি গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি আছে।
১০. প্রতিদিন প্রায় ২ লিটার গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।
১১. পাকস্থলীতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাক শুরু হয়। কার্বোহাইড্রেট হয় না।
১২. ক্ষুদ্রান্ত্র ৬-৭ মিটার লম্বা। (নামে ক্ষুদ্র হলেও এটিই সবচেয়ে লম্বা, পুরো পাকস্থলী ৮-১০ মিটার, সেখানে ক্ষুদ্রান্ত্র একাই এত লম্বা!)
১৩. ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশ রয়েছে:
* ডিওডেনাম = U আকৃতির, ২৫-৩০ সেমি লম্বা,
* জেজুনাম = ২.৫ মিটার লম্বা, দুই-পঞ্চমাংশ।
* ইলিয়াম = তিন-পঞ্চমাংশ গঠন করে, প্রায় ৩.৫ মিটার।
১৪. বৃহদান্ত্র ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা। এরও তিনটি অংশ:
* সিকাম = এর থেকেই অ্যাপেনডিক্স উদ্ভূত।
* কোলনের তিনটি অংশ: উর্ধ্বগামী কোলন, অনুপ্রস্থ কোলন, নিম্নগামী কোলন। এরপর সিগ্ময়েড কোলন অংশটি রয়েছে।
* মলাশয়
১৫. পৌষ্টিক গ্রন্থিতে নির্দিষ্ট তিনটি গ্রন্থি হলো: লালাগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয় ও যকৃত।
১৬. লালাগ্রন্থির সেরাস কোষ থেকে এনজাইম বের হয়। টায়ালিন সিদ্ধ শ্বেতসারকে আইসোমলটোজ ও মলটোজ-এ পরিণত করে এবং মলটেজ মলটোজ (দুইটি গ্লুকোজ মিলে ডাইকার্বোহাইড্রেড) থেকে গ্লুকোজ উত্পন্ন করে।
১৭. অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থিগুলো থেকে ছোট ছোট নালিকা বেরিয়ে একত্রিত হয়ে উইরসাং নালী গঠন করে। এ নালী ডিওডেনামের কাছে
পিত্তনালীর সাথে মিলিত হয়ে ভ্যাটার এর অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
১৮. অগ্ন্যাশয় একাধারে বহিঃক্ষরা এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। অগ্ন্যাশয়ে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থাকে, যা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
১৯. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি রূপে এটি অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করে, এতে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য (কার্বোহাইড্রেড, প্রোটিন, লিপিড) পরিপাকের এনজাইম থাকে।
২০. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি রূপে আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যানস হতে ইনসুলিন, গ্লুকাগন, গ্যাস্ট্রিন ও সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে।
২১. যকৃত দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষে এর ভর ১.৫০-২.০০ কেজি।
২২. চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃত গঠিত: ডান, বাঁ, কোয়াড্রেট ও কডেট। ডান খণ্ডটি সবচেয়ে বড়।
২৩. যকৃত পিত্ত ক্ষরণ করে পিত্তাশয়ে জমা রাখে ও স্নেহ জাতীয় পদার্থের শোষণে সাহায্য করে। (পিত্তাশয়ে কিন্তু পিত্তরস উত্পন্ন হয় না, যকৃত থেকে উত্পন্ন হয়।)
পরের অংশ আগামীকাল
