মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গতকালের পর
চুপ করো তো, এখন এত কথা বলবে না। আগে ডাক্তারের কাছে যাই।
না না, অধ্যাপক ড. আলী আসগর কিন্তু মারা গেছেন।
তাই নাকি!
অণু বলল, অধ্যাপক আলী আসগর কে?
নীলকান্তবাবু বললেন, তিনি একজন নামকরা পদার্থবিজ্ঞানী। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের
মেডিক্যালফিজিক্স ও
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন, পদার্থবিজ্ঞান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির অন্যতম প্রধান। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন।
কমলা বললেন, তিনি তো অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন।
হ্যাঁ, বিজ্ঞানে অবদানের জন্য তিনি ড. মনিরুজ্জামান স্বর্ণপদক, ড. কুদরত-ই-খুদা স্বর্ণপদক, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণপদক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক স্বর্ণপদক পেয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল জমাট পদার্থ, চৌম্বক বস্তু, মেডিক্যালফিজিক্স এবং বায়োম্যাগনিটিজম।
কমলা বললেন, তিনি তো খেলাঘরেরও সভাপতি ছিলেন।
হ্যাঁ।
কমলা মনে মনে একটু ভয় পেয়েছেন। তবে তা বাইরে প্রকাশ করছেন না।
.........................................
এরপর নীলকান্তবাবুর খোঁজখবর আমরা আর রাখিনি। পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তাঁর একশটি গল্প তিনি ছেলেমেয়ে স্ত্রী আর ভাগনা ভাগনিকে বলে গেছেন। পৃথিবীতে এটিই তার সম্পদ। সারাদেশে কত মানুষ কত রকমের সমস্যায় পড়ে, কে কার খবর রাখে। নীলকান্তবাবুর করোনা হয়েছিল, নাকি সাধারণ জ্বর, এই টেস্ট এর রিপোর্ট পেতে কতদিন লেগেছিল, সেই রিপোর্ট সঠিক ছিল কি-না, একসাথে থাকার ফলে পরিবারের অন্য কারো দেহে সংক্রমিত হয়েছিল কি-না এই খবর আমরা আর রাখিনি।
এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাস এক বক্তব্যে বলেছেন, পৃথিবী আবার আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার কোনও সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই। মানব সভ্যতা আগের মতো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে কি-না সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর জানা নেই।
তবে পদার্থবিজ্ঞানের একশটি গল্প জানা সকলেই জানে, প্রতি শতাব্দীতে এরকম একটা মহামারি পৃথিবীকে আটকে ফেলার জন্য সামনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু কিছুই করতে পারে না। পৃথিবী ঠিকই আগের মতো ঘন্টায় ৯৬০০০ কিলোমিটার বেগে সূর্যের চতুর্দিকে ঘুরতে থাকে, এবং নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘন্টায় ১৬৬০কিলোমিটার বেগে পাক খেতে থাকে, তা গ্যালিলিওকে ইনকুইজিশনে শাস্তিই দেয়া হোক, আর জিওর্দানো ব্রুনোকে পুড়িয়েই মারা হোক, পৃথিবীর এতে কিছু আসে যায় না।
পৃথিবীকে কোনও কিছুই আটকে ফেলতে পারবে না।
