মোগল আমলের বারো ভুঁইয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঈসা খাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। এখানে ঈসা খাঁ ও মুসা খাঁ এবং পূর্ববর্তী স্বাধীন সুলতানরা রাজত্ব করতেন। তাঁদের রাজত্বকালে তাঁরা বিভিন্ন ইমারত নির্মাণ করেন। সেই সময়ের প্রত্যেকটি মসজিদ, খানকা ও সমাধি আরবীয় অলংকরণে সজ্জিত। এখানকার পানাম, আমিনপুর, গোয়ালদী, মোগরাপাড়া, দমদমা, ভাগলপুর, শাহচিল্লাহপুর, মহজমপুর এসব গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুরাকীর্তিসমূহের ধ্বংসাবশেষ। গোয়ালদী গ্রামের হোসেন শাহী মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যের এক অনুপম নিদর্শন। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহীর শাসনামলে নির্মিত।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে মোল্লা হিজবার আকবর ৯২৫ হিজরি ১৫ শাবান মোতাবেক ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে ১২ আগস্ট এ মসজিদ নির্মাণ করেন। হোসেন শাহ ৯০৫ হিজরি থেকে ৯২৭ হিজরি পর্যন্ত রাজত্ব করেন এবং তিনি বাংলার সুলতানদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কারুকার্যময় মসজিদটি নির্মাণের দীর্ঘদিন পর এক পর্যায়ে সংস্কারের অভাবে ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়। পরে আবার নির্মাণ করা হয়। পুনর্নির্মাণের আগে মেহবার ও দেয়ালের কিছু অংশের অস্তিত্ব ছিল। গোয়ালদী গ্রামে মসজিদটি নির্মিত হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘গোয়ালদী হোসেন শাহী মসজিদ’। সোনারগাঁওয়ে যে সব মুসলিম স্থাপত্য রয়েছে, তার মধ্যে প্রাচীন আরবীয় শিল্পরীতিতে নির্মিত এই মসজিদটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
আশির দশকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সে সময় মসজিদটির ব্যাপক সংস্কার হয়। এতে ফুল, লতা-পাতা নকশাসংবলিত পোড়ামাটির ফলক স্থাপন করায় এর প্রকৃত রূপ অনেকটাই বদলে যায়। মসজিদের গায়ে যেসব মূল্যবান কারুকাজ খচিত পাথরের ফলক ছিল, সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্তির আগেই চুরি হয়ে গেছে। গোয়ালদী শাহী মসজিদটি দেখতে বর্তমানে পর্যটকরা ভিড় জমান। ইদানীং সংস্কারের অভাবে ইটগুলো খসে পড়ছে এবং কারুকার্য বিলীন হতে চলেছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে হারিয়ে যেতে সময় নেবে না খুব বেশি।
হাসান মাহমুদ রিপন
