‘অভিনয় দেখানোর সুযোগ আছে এমন চরিত্রে বেশি কাজ করছি’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩৬

 

ক্যারিয়ারের সফলতা-ব্যর্থতার হিসেবকে তোয়াক্কা করে নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক ইমন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও সমানতালে চলছে তার বিচরণ। চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে নিজের ব্যস্ততার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—

কিছুদিন আগে ‘আগামীকাল’ ছবিটির কাজ শেষ করেছি। পাশাপাশি এই মুহূর্তে (গতকাল) ‘কাগজ:দ্য পেপার’ ছবিটির শুটিংয়ে আছি। এছাড়া ‘কানামাছি’ ছবিটিরও বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা চলছে। এর বাইরে সম্প্রতি ‘মাফিয়া’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করলাম। এছাড়াও হাতে বেশ কয়েকটি ছবি এবং ওয়েব সিরিজের কাজ রয়েছে।

‘কাগজ:দ্য পেপার’ ছবিটিতে আপনার চরিত্র এবং গল্প কোন প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে?

একজন লেখককে কেন্দ্র করে ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। এখানে আমি একজন বিখ্যাত লেখকের চরিত্রে অভিনয় করছি। যিনি তার গুরু দ্বারা প্রভাবিত এবং জীবন থেকে গল্প লেখেন। লেখার জন্য পাগল এই লেখকের গল্পে নাটক-সিনেমা নির্মিত হয়। জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করা লেখকের প্রেমে পড়ে সুপারস্টার নায়িকা। এমনই একটি গল্প নির্ভর ছবি কাগজ:দ্য পেপার।

সম্প্রতি আপনাকে গল্প নির্ভর ছবির প্রতি বেশি মনোযোগী হতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কী?

আমি অ্যাকশন, রোমান্টিক, কমেডি-থ্রিলার ঘরানার বেশকিছু ছবি করেছি। তবে আমার মনে হয় গল্প নির্ভর ছবিগুলোতে আমার সফলতা বেশি। তাই যে গল্পে বৈচিত্র্যতা আছে এবং অভিনয় দেখানোর সুযোগ আছে এমন চরিত্রে বেশি কাজ করছি। তাছাড়া গল্প নির্ভর ছবির ট্রেন্ড চালু হওয়াও এ ধরনের কাজে মনোযোগী হওয়ার অন্যতম কারণ।

অন্যান্য তারকার মতো ইমনকেও ওটিটিতে দেখা যাচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মাধ্যমটিতে কাজের স্বাধীনতা কতটুকু দেখতে পাচ্ছেন?

অবশ্যই এই মাধ্যমটিতে কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। আমি যে কাজগুলো করেছি সেগুলো স্বাধীনভাবেই করতে পেরেছি। এখানে নতুন নতুন গল্প বলার সুযোগের পাশাপাশি ভালো বাজেট রয়েছে। শিল্পীরাও নানামুখী চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপনের একটি প্লাটফর্ম পেয়েছে।

কিন্তু শুরুতেই মাধ্যমটিতে সিন্ডিকেটের কথা শোনা যাচ্ছে। এমন চর্চায় আপনাদের কাজের সুযোগ কেমন থাকবে?

আমি সিন্ডিকেট বিষয়টি বিশ্বাস করি না। কারণ সিন্ডিকেট করে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। তাছাড়া অনেকেই কিন্তু সিন্ডিকেটের বাইরে চরিত্রের প্রয়োজনে যাকে দরকার তাকে নিয়ে কাজ করছেন। তবে আমার মনে হয় সবাই মিলে মিশে কাজ করলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য মঙ্গল হবে।

ওটিটি মাধ্যমটি চলচ্চিত্র সংকট কতটা দূর করতে পারবে?

একটা মাধ্যমের সংকট অন্য একটি মাধ্যম কখনো দূর করতে পারে না। কারণ চলচ্চিত্রের মূল মাধ্যম কিন্তু সিনেমা হল। ওটিটি চলচ্চিত্রের বিকল্প মাধ্যম। হলে বসে ছবি দেখার যে মজা সেটা কোথাও পাওয়া যাবে না। তাই আমার মনে হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চলচ্চিত্র আবার হলে ফিরবে এবং দর্শকরা হলমুখী হবে।

আপনাদের সঙ্গে সিনিয়র শিল্পীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এখন কেমন?

আমার সঙ্গে সব সিনিয়রের সম্পর্কই খুব ভালো। তারা আমাকে অনেক ভালোবাসেন, কাজে অনুপ্রেরণা জোগান। আমিও চেষ্টা করি তাদের শ্রদ্ধার আসনে রাখতে এবং আমার জুনিয়রদের ভালোবেসে আগলে রাখতে।

আপনার সমসাময়িক অনেকেই চলচ্চিত্রে  নিয়মিত কাজ করছেন। তারপরও ইন্ডাস্ট্রি একক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

শাকিব খান অনেকদিন ধরেই কিন্তু দেশের চলচ্চিত্রকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। আমার মনে হয়, কারো জায়গা কেউ নিতে পারে না। ওনার জায়গায় উনি থাকবেন, পাশাপাশি অনেকে হয়তো ভালো ভালো কাজ করবেন। করোনার কারণে সব স্তব্ধ হয়ে গেলেও এখন কিন্তু ওটিটি থেকে শুরু করে নানা মাধ্যমে অনেকেই প্রশংসিত কাজ করছেন।

চলচ্চিত্র সংকটের জন্য অনেকেই সস্তা গল্প, নির্মাণ দুর্বলতা, অভিনয়ে প্রাণ না থাকার মতো কারণগুলোকে দায়ী করেন। আপনি কাকে দায়ী করবেন?

আমার মনে হয় এই সংকটের জন্য হল দায়ী। যদি হল সংকটের সমাধান হয়, তবে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মিত হবে এবং এ ধরনের আনারি নির্মাণ কমে যাবে।