যশোরে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ব্যবসা জমজমাট

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৭

বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ

আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যশোরে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের রমরমা ব্যবসা চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা আর মামলা করে, এমনকি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও ঠেকানো যাচ্ছে না লাইসেন্সবিহীন এই ব্যবসা পরিচালনা। লাইসেন্স ছাড়া জেলায় অন্তত দেড় হাজার ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এমনও অভিযোগ পাওয়া গেছে, এসব ফার্মেসিতে বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিকসহ স্পর্শকাতর এবং ভেজাল ওষুধ বিক্রি হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত ফার্মেসি রয়েছে ৪ হাজার ২৪৮টি। প্রতি দুই বছর পর এসব ফার্মেসির লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম। কিন্তু অনেক ফার্মেসির লাইসেন্স হয়ে গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ। লাইসেন্স ছাড়াও চলছে প্রায় দেড় হাজার ছোট-বড় ফার্মেসি। তবে লাইসেন্স ছাড়া কতগুলো ফার্মেসি আছে, তার কোনো তথ্য নেই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। তবে লাইসেন্স ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা করার অপরাধে এ বছর জেলার ১০ ফার্মেসি মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি খুচরা বা পাইকারি দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স নেওয়ার পর দুই বছর অন্তর নবায়নের বাধ্যবাধকতা আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না হলে বিলম্ব ফি দিয়ে নবায়নের সুযোগ আছে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও লাইসেন্স নবায়ন করছেন না অনেক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন এভাবে চললেও মেয়াদোত্তীর্ণ এসব লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তারা বলছেন, আমরা তালিকা করে ডিজির কাছে পাঠিয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শহীন বলেন, লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে এক্সপার্ট হিসেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ধরা হয়। তারাই সব দেখভাল করবে। আমরা তাদের সহায়তা করি। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করার অপরাধে একটি ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিলের জন্য আমরা সুপারিশ পাঠিয়েছি।

সূত্র জানিয়েছে, খুচরা ওষুধ বিক্রির জন্য দুই ক্যাটাগরির লাইসেন্স দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। মডেল ফার্মেসি ও মেডিসিন শপ। ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে ২০০ টাকা ফি দিয়ে পাইকারি, ১০০ টাকা দিয়ে খুচরা দোকানের লাইসেন্স নবায়ন করা যায়। মেয়াদোত্তীর্ণের পর তিন থেকে ১২ মাস পর্যন্ত পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৫০০, খুচরা ব্যবসায়ীরা ২০০ টাকা ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেন। মেয়াদোত্তীর্ণের ১২ মাসের ঊর্ধ্বে বা পরবর্তী বছরের জন্য পাইকারি দোকান ১ হাজার ও খুচরা দোকানের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ আছে। এত সুযোগের পরও অনেকে একেবারেই লাইসেন্স নেয়নি। কেউ কেউ নিলেও পরে নবায়ন করেননি।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. হামিদ চাকলাদার ইদুল ইত্তেফাককে বলেন, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা আমরা সমর্থন করি না। যারা লাইসেন্স নবায়ন করবে না, তারা বিপদে পড়বে। আর জরিমানা কিন্তু নবায়ন ফিয়ের চেয়ে অনেক বেশি। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সমিতিই ভূমিকা রেখেছে, যোগ করেন তিনি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের নির্দেশে দেশের সব জেলার সিভিল সার্জন, ড্রাগ সুপার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার ওষুধের দোকানের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাত্ ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কতটি ফার্মেসি আছে, কতগুলোর লাইসেন্স আছে আর কতগুলোর লাইসেন্স নেই ইত্যাদি তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।