কোদালা বনাঞ্চলের পাহাড়ি মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও ভরাট কাজে!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২১

রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা বিট এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি  লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক পরিবেষ্টিত এলাকাসহ ফুইট্ট্যাগোদা, গজালিয়া, সেগুনবাগান, দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর বনাঞ্চলে ব্যাপক হারে এ ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বনের পাহাড় কাটা মাটি যাচ্ছে এলাকার ইটের ভাটা এবং বিভিন্ন স্থানে পুকুর-ডোবা ভরাট কাজে। ব্যাপক হারে পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ছাড়াও সামনের বর্ষায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে স্থানীয় অভিজ্ঞমহল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর মৌজায় কলাবাইজ্যাঘোনা, বটথলী, হেনাখোলা এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় কাটার ঘটনা বেড়েছে। এলাকাবাসী জানায়, চিহ্নিত চোরচক্র পাহাড়ের মাটি নিয়ে বাণিজ্য গড়ে তুলছে। এলাকায় গৃহস্থের পুকুর ডোবা এবং ভিটা বাড়িতে ভরাট কার্যক্রমে ঠিকাদারি চুক্তিমূলে পাহাড়ের মাটি সরবরাহ করছে তারা।

কলাবাইজ্যাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, নুরুল আলম, জসিম উদ্দিনসহ অনেকে জানান, দিনের চেয়ে রাতে পাহাড় কাটার উত্পাত বেশি। কলাবাইজ্যাঘোনা আমিন মেম্বার নামের পাহাড় কেটে রাতের অন্ধকারে মাটি পাচার করছে একটি চক্র। সন্ধ্যার পর থেকে  শুরু করে  রাতভর চলে পাহাড় কাটা। এসব পাহাড়ের মাটি ট্রাক বোঝাই করে রাতেই নিয়ে যায়। চন্দ্রঘোনা সিকদার পাড়া, হিন্দুপাড়া গ্রাম, কদমতলীসহ কয়েকটি স্থানে গৃহস্থের ভিটা ও পুকুর ডোবা ভরাটে এ মাটি পাচার হয়।

বনগ্রামের বাসিন্দা হাজী নরুন্নবী জানান, গ্রামীণ রাস্তায় চলাচল করা পাহাড়ের মাটি পরিবহনকারী ট্রাক ও চাঁদের গাড়ির বিকট শব্দে রাতের নীরবতার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। গজালিয়া, ফুইট্যাগোদা উত্তর গজালিয়া এলাকার কয়েকটি ইটের ভাটায় মাটি ও বালুর জোগান দিতে উজাড় করা হচ্ছে কোদালা বন বিটের স্থানীয় পাহাড়। নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, গজালিয়া ও নিশ্চিন্তাপুর জঙ্গলে ১০/১১টি ইটের ভাটায় পুড়ছে পাহাড়ের মাটি। এখানে পাহাড় কাটতে ব্যবহার হচ্ছে একসকাভেটর যন্ত্র।

কোদালা বন বিট কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখলদারিত্বের উত্পাত রয়েছে। পাহাড় কেটে মাটিও পাচার করা হচ্ছে। সীমিত জনবলে প্রতিরোধ খুবই কঠিন ব্যাপার। রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় বলেন, পাহাড় কাটা এবং বনাঞ্চল দখলে কিছু প্রভাবশালী জড়িত। বন বিভাগের দ্বারা সীমিত লোকবলে উশৃঙ্খল লোকজনের পাহাড় কাটা প্রতিরোধ দুরূহ কাজ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটা এবং ইটের ভাটা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড প্রভাবমুক্ত করা জরুরি। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং পাহাড় কাটা প্রতিরোধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলছে।