সাংবাদিক নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ভয় দেখানোর জন্যই সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে মত দিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে চিঠি দিয়েছে তা উদ্দেশ্যমূলক বলেও উল্লেখ করেন তারা। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে, ডিইউজে, জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সম্মিলিতভাবে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। তারা বলেন, সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে তাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাটি সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস। এ সাংবাদ সম্মেলন থেকে আজ রবিবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তপশিলি ব্যাংকে চিঠি দেয়। সাংবাদ সম্মেলনে চিঠি পাওয়া ১১ জন সাংবাদিকের মধ্যে অধিকাংশই উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বিএফইজের (অপর অংশ) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজে (অপর অংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ব্যাংক হিসাব তলবের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকে কিংবা জঙ্গি অর্থায়নে সহায়তা সন্দেহ করা হয়, তখনই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়। কিন্তু আমাদের তো এ রকম কোনো অভিযোগের কারণ নেই। সরকারের মন্ত্রীরাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে এ সময় উল্লেখ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি। মোল্লা জালাল বলেন, চিঠি দেওয়ার পর তথ্য পাওয়ার আগেই ব্যাংক হিসাব তলবের খবর গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই চিঠি। সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যমূলক। এটি স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসিউর রহমান খান। তিনি বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা এর আগে কখনোই এ রকম ঘটনা ঘটেনি।
