সৈয়দপুরের ‘বিলাই দাদি’
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
গল্পটি সৈয়দপুরের দুঃখিনী এক মায়ের। যার সংসারে কেউ নেই। যিনি গত ২০ বছর থেকে তার দিনমজুরির টাকা দিয়ে খাবার রান্না করে প্রতিদিন ২০-৩০টি কুকুর ও বিড়ালকে খাবার খাইয়ে আসছেন। এই পশুপ্রেমের কারণে পাড়ার মানুষ তাকে নাম দিয়েছে বিলাই দাদি।
ফরিদা বেওয়া (৫৮) নামের সেই মমতাময়ী নারী সৈয়দপুর হাতিখানা মহল্লায় রেললাইনের ধারে জরাজীর্ণ একটি বাসায় ভাড়ায় থাকেন। সকাল থেকে বিভিন্ন হোটেলে করেন দিনমজুরি। ৩০ বছর আগে স্ব্বামী মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর আদরের দুই ছেলের মধ্যে একটি মারা যায়, আরেকটি যায় হারিয়ে। তখন থেকেই একাকী পথ চলা শুরু ফরিদা বেওয়ার। তবে এখন আর তিনি একা নন, কুকুর-বিড়ালদের নিয়ে মমতাঘেরা একটি পরিবার আছে তার।
শহরের ক্যান্টনমেন্ট সড়কে দেখা মেলে ফরিদা বেওয়ার। তাকে ঘিরে আছে কয়েকটি কুকুর। একে একে খাবার খাইয়ে কুকুরগুলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন তিনি। মানুষ ও পশুর মাঝে সে এক অপূর্ব ভালোবাসার বন্ধন। এমন দৃশ্য পশ্চিমের দেশগুলোতে বিরল না হলেও সৈয়দপুরে ছিল অকল্পনীয়। আর এই ধারা চলছে গত ২০ বছর থেকে।
ফরিদা বেওয়ার পশুপ্রীতির কথা বলতে গিয়ে একটা ঘটনা তুলে ধরলেন তার সঙ্গে হোটেলে কাজ করা শাহিন (৩২)।
কয়েক মাস আগের কথা, প্রতিদিনের মতো রান্না করে খাবার নিয়ে রাতে বেরিয়েছিলেন ফরিদা বেওয়া। বাস টার্মিনালে দল বেঁধে থাকা কুকুরদের খাওয়াচ্ছিলেন তিনি। তখন সাতটির মধ্যে উপস্থিত ছিল ছয়টি কুকুর। পর দিন আবার গেলেন খাবার নিয়ে কিন্তু তখনো একটা কুকুর কম। খোঁজাখুঁজি করলেন অনেক। আশপাশের লোকজন থেকে জানতে পারলেন, চলন্ত ট্রাকের নিচে পড়ে একটি কুকুর মারা গেছে। একথা শুনে ফরিদার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি চিত্কার করে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। থানা পর্যন্ত তিনি গিয়েছিলেন সেই ঘাতক ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।
