রাজশাহী শহরের তালাইমারী এলাকায় আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। বালু তোলা বন্ধের মাসখানেকের মধ্যেই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালুকারবারিরা গত দুই দিন ধরে পদ্মায় অবৈধ ড্রেজার লাগিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে।
জানা গেছে, পদ্মাপাড়ের ঐ পয়েন্টে অনেকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালুরঘাট বন্ধ করেছিল জেলা প্রশাসন। সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে তালাইমারী পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করে। এরপর সেখানে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু মাসখানেক যেতে-না-যেতে আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ বালুর কারবার। জানা যায়, তালাইমারী ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসকের দপ্তরে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তালাইমারী পয়েন্টে কোনো বৈধ বালুরঘাট বা বালুমহাল নেই। এর পরও প্রশাসনের নাকের ডগায় দুর্বৃত্তরা সেখানে অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে সরজমিনে তালাইমারী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পাইপের সাহায্যে প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাকৃত ঘাটের ৬ কিলোমিটার ভাটিতে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় আনার আলী জানান, শহর রক্ষা বাঁধ কেটে ট্রাক চলাচলের রাস্তা বানিয়ে একদল লোক কয়েক মাস আগে তালাইমারী এলাকায় বালু উত্তোলন শুরু করে। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু তোলা বন্ধ করে দেয়। জেলা প্রশাসন সেখানে রীতিমতো নোটিশ টাঙিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু কিছুদিন পরই ফের বালু লুটের কারবার শুরু হয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার বুকে রাস্তা বানিয়ে ট্রাক নামিয়ে বালু তোলে একই চক্র। বর্তমানে পদ্মায় পানি থাকায় বালু মজুত করা হচ্ছে বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই। এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। বালু লুটেরারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের আর বাধা দিতে সাহস পাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর তালাইমারী এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে ইতিপূর্বে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট হয়েছিল। বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ঐ রিট করেন। উচ্চ আদালত তালাইমারীতে কোনো বালুঘাট না থাকায় বাল উত্তোলন বন্ধের আদেশ দেন। কিন্তু রিটকারী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বেই উচ্চ আদালত ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বলেন, তালাইমারী এলাকায় কোনো বালুমহাল নেই। সেখানে বালু উত্তোলনের প্রশ্নই আসে না। এর আগে ইজারাদার বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করে তালাইমারী ঘাট দিয়ে পরিবহন করছিল। সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন করে সেখানে বালু তোলা হচ্ছে কি না তা জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
রাজশাহী :তালাইমারী এলাকায় পদ্মা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এভাবে মজুত করা হয়। গতকালের ছবি —ইত্তেফাক
