যশোর থেকে কক্সবাজারে আসা সাত বন্ধুর দুই জনের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৩

যশোর থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন সাত বন্ধুর একটি দল। প্রথমে উঠেছিলেন কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ড্রিম প্যালেস হোটেলে এবং পরে ওঠেন বিচ হলিডে হোটেলে। শুক্রবার সকালে তারা এক সঙ্গে হোটেল থেকে বেরিয়ে দুপুরে পাঁচ জন হোটেলে ফিরে এলেও অপর দুজন নিখোঁজ ছিলেন। এদের মধ্যে এক জনকে ভাসমান অবস্থায় ঐ দিন (শুক্রবার) বিকালে সৈকতের সি-গাল পয়েন্টে পাওয়া যায়। অপর জনকে পাওয়া যায় সৈকতের নাজিরারটেক-মহেশখালী চ্যানেলের মোহনায় শনিবার। এই দুজনের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—তারা কি দুর্ঘটনাবশত সাগরে ডুবে মারা গেছে, নাকি তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে? কারণ দুজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রশাসন বা পরিবারকে জানায়নি তাদের পাঁচ সঙ্গী। এদের মধ্যে এক জন আবার পলাতক। চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস।

কক্সবাজারে সাগরে যে দুই যুবকের লাশ পাওয়া গেছে, তাদের এক জন হলেন যশোর উপশহরের এ ব্লকের বাসিন্দা কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের ছেলে রাফিদ ঐশিক (২৩) এবং অপর জন হলেন শহরের লালদীঘি এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক শাহরিয়ার মেহের ইবনে মিজানের ছেলে মেহের ফারাবি অভ্র (২৩)। রাফিদ ঐশিক যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অভ্র ঢাকার একটি বেসরকারি ভার্সিটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের চার বন্ধু রোহান, মাসুদ, মুহিবুল ও ফারদিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সকলের বাড়ি যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। তাদের আরেক বন্ধু আলিফ (২৪) পলাতক রয়েছে। আলিফ যশোরের নিজামপুর এলাকার মুবিন উদ্দিনের ছেলে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার কক্সবাজারে বেড়াতে আসে সাত বন্ধু। তারা প্রথমে শহরের ড্রিম প্যালেস নামে একটি হোটেলে উঠে। সেখানে দুদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার বিচ হলিডে নামে আরেক হোটেলে ওঠে। এরপরই তাদের দুবন্ধুর সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিচ হলিডে হোটেলের এক ব্যবস্থাপক বলেন, শুক্রবার সকালে তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুরের পর হোটেলে ফিরে আসে পাঁচ জন। তারা তখন জানিয়েছিল তাদের দুবন্ধু নিখোঁজ হয়েছে। বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে বিকালে কৌশিকের মরদেহ পাওয়া যায়। আর শনিবার মিলেছে অভ্রর লাশ। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপে পাঁচ জনের চার জনকে সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজন কৌশলে কোথায় যেন সটকে পড়ে।